৪০ ক্যামেরায় এক মাসেও সেই বাঘিনীর খোঁজ মিলেনি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:১১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
সুন্দরবনে ৮ কিলোমিটার এলাকায় বসানো ৪০টি ক্যামেরায়ও সন্ধান মিলছে না চিকিৎসা শেষে অবমুক্ত করা সেই বাঘিনীটির। তার পুরোনো আবাসস্থলে ইতোমধ্যে অন্য তিনটি বাঘিনীর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ফলে বাঘিনীটি বেঁচে আছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হরিণ শিকারিদের পাতা ছিটকা ফাঁদে আটকা পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর প্রায় ছয় মাস চিকিৎসা ও পরিচর্যায় ছিল বাঘিনীটি। সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর গত ১২ জুলাই তাকে সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক এলাকার গভীর বনে অবমুক্ত করা হয়। এরপর এক মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো ক্যামেরায় তার ছবি ধরা পড়েনি।
বন বিভাগ জানায়, বাঘিনীটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে অবমুক্তির আগেই আন্ধারমানিক এলাকায় ৮ কিলোমিটারজুড়ে ২০টি স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাপিং ক্যামেরা বসানো হয়। পরে শ্যালনদীর পূর্বপাড় ও জয়মনি এলাকায় আরও ২০টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এসব ক্যামেরার ফুটেজ নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিকের গভীর বনে স্থাপন করা ক্যামেরায় এরই মধ্যে তিনটি বাঘিনীর ছবি পাওয়া গেছে। তবে চিকিৎসা শেষে অবমুক্ত করা বাঘিনীটির কোনো ছবি এখনো মেলেনি।

আরও পড়ুন: চা-বাগান দখলের অভিযোগে বিধবাকে মারধর, শ্লীলতাহানি
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ বলছে, ক্যামেরায় ছবি না পাওয়াকে বাঘিনীটির মৃত্যুর প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ওই এলাকায় অন্য তিনটি বাঘিনী নতুন করে বিচরণ শুরু করায় অবমুক্ত বাঘিনীটি প্রতিযোগিতা এড়িয়ে অন্য এলাকায় চলে যেতে পারে। সাধারণত একটি বাঘ ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় বিচরণ করে। তাই বাঘিনীটিও তার বিচরণক্ষেত্র পরিবর্তন করে ক্যামেরার আওতার বাইরে চলে গিয়ে থাকতে পারে।
গত ৩ জানুয়ারি চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারী টহল ফাঁড়ির আওতাধীন শরকির খালসংলগ্ন বনে হরিণ শিকারিদের পাতা ছিটকা ফাঁদে আটকা পড়ে বাঘিনীটি। এতে তার সামনের বাঁ পায়ে গুরুতর ক্ষত হয় এবং পরে ক্ষতস্থানে পচন ধরে। ফাঁদ থেকে উদ্ধারের পর তাকে খুলনার বয়রায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়।
সেখানে পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের তত্ত্বাবধানে প্রায় ছয় মাস চিকিৎসা ও পরিচর্যার পর সুস্থ হয়ে ওঠে বাঘিনীটি। পরে গত ১২ জুলাই উদ্ধারের স্থানসংলগ্ন আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের পাশের বনাঞ্চলে তাকে অবমুক্ত করা হয়।
অবমুক্তির পর বন বিভাগের পর্যবেক্ষণে প্রায় ১৫০ মিটার এলাকায় বাঘিনীটির পায়ের ছাপ পাওয়া যায়। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, চেতনানাশক প্রয়োগের কারণে অবমুক্তির সময় কিছুটা দুর্বল থাকলেও পরে স্পষ্ট পায়ের ছাপ পাওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল বলে ধারণা করা হয়।
তবে অবমুক্তির সময় ধারণ করা ভিডিওতে খাঁচা থেকে বের হয়ে বনে যাওয়ার সময় বাঘিনীটিকে কিছুটা ডানে-বাঁয়ে হেলে পড়তে এবং দাঁড়াতে কষ্ট করতে দেখা যায়। সে সময় বারবার পেছনে ফিরে তাকাতেও দেখা যায় তাকে।
ডিএফও রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বাঘিনীটি হয়তো অন্য এলাকায় চলে গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে আগামী সপ্তাহে বন বিভাগ আবারও ৪০টি ট্র্যাপিং ক্যামেরার ফুটেজ ও অবস্থান পর্যবেক্ষণ করবে। আন্ধারমানিক এলাকাজুড়ে বন বিভাগের নিবিড় নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।
