এবার মরদেহ তোলা ঠেকাতে ‘পীরের’ কবর ঢালাই
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দাফনের পাঁচ মাস পর কবর খুঁড়ে মরদেহ তুলে দরবার শরিফে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এবার ঢালাই করা হয়েছে 'পীর' আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরের কবর। পরিবারের সদস্যদের সম্মতিতে স্থানীয় প্রশাসন ইট-সিমেন্ট দিয়ে কবরটি ঢালাই করে দিয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ যেন কবর খুঁড়ে মরদেহ তুলে নিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য কবরটি পাকা করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর (দারোগার মোড়) এলাকার কবরস্থানে 'পীর' শামীমের কবরটি ঢালাই করে দেওয়া হয়। এর আগে কবর খুঁড়ে 'পীরের' গলিত মরদেহ দরবার শরিফে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মাজার তৈরি করে আবার দরবারের কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে রাতের আঁধারে তার ভক্তরা মরদেহটি নিয়ে যান। পরেরদিন 'পীরের' মরদেহ উদ্ধার করে আগের কবরস্থানে পুনঃস্থাপন করে প্রশাসন।
আরও পড়ুন: যৌন উত্তেজক হালুয়া বিক্রি, তারপর যা হলো...
জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থান থেকে 'পীর' শামীমের দেহাবশেষ তুলে তার প্রতিষ্ঠিত ‘শামীম জাহাঙ্গীর কালান্দার বাবার' দরবার শরিফে নিয়ে দাফন করা হয়। পরেরদিন শনিবার সকালে বিষয়টি জানতে পারেন স্বজনরা। খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কবরটি খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে দরবার প্রাঙ্গণ থেকে কথিত ওই পীরের গলে-পচে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর সেটি আগের কবরস্থানে ফিরিয়ে এনে পুনঃস্থাপন করা হয়।
মরদেহ তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নিহত 'পীর' শামীমের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে দৌলতপুর থানায় লাশ অবমাননার অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। তবে এজাহারে অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। কবর ঢালাই করার বিষয়ে ফজলুর রহমান বলেন, 'আর যেন কেউ কবর খুঁড়ে লাশ তুলতে না পারে, এ জন্য আমরা কবরটি পাকা করে দিয়েছি। লাশ টানাটাটি আর যেন না হয়, এ জন্য কবরটি ইট-সিমেন্টের ঢালাই করে দেওয়া হয়েছে।’
দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রশাসনের সহায়তায় শামীমের ভাইয়েরা মিলে কবরটি পাকা করে দিয়েছেন। লাশ নিয়ে যেন বারবার টানা-হ্যাঁচড়া না হয়, সে জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কবর পাকা করার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। লাশ তোলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে কাজ করছে পুলিশ।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, 'ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দরবার শরিফ থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করে মূল কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কবরটি পাকা করে দেওয়া হয়েছে।'
উল্লেখ্য, দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগরে চলতি বছরের ১১ এপ্রিল পবিত্র কোরআন ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগে 'পীর' আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরের দরবার শরিফে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই সময় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর হাতে তিনি নিহত হন। পরদিন ১২ এপ্রিল ময়নাতদন্ত শেষে পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় নিহত শামীমের বড় ভাই স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে চারজনের নাম-পরিচয় উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
