আইন পাস
সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মার অধিকার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
ফাইল ছবি
সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করার পরও দাতা বাবা-মা বা দাদা-দাদি, নানা-নানি জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগ ও দখলে রাখার অধিকার পাবেন—এমন বিধান রেখে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সংসদ অধিবেশনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
বিলে বলা হয়েছে, পিতা-মাতা বা পিতামহ-মাতামহ তাদের সন্তান বা নাতি-নাতনিকে কিংবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পরও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির গ্রহীতা মারা গেলে দাতার ভোগাধিকার বহাল থাকবে এবং পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী ওই সম্পত্তি গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে হস্তান্তরিত হবে।
দাতার ভোগাধিকার সংরক্ষণের নতুন পদ্ধতি
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে বিধান থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই।
প্রস্তাবিত আইনে জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে সম্পত্তি দানের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি যুক্ত করা হয়েছে। এই বিধান সব ধর্মাবলম্বীর জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হবে।
আরও পড়ুন: প্রস্তাবিত মানবাধিকার কমিশন আইনে ‘দ্বৈত প্রয়োগ’, জামায়াতের ওয়াকআউট
আইনমন্ত্রী বলেন, নতুন বিধানের ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা, অছিয়ত কিংবা আইন দ্বারা স্বীকৃত অন্য কোনো ধরনের সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না এবং এসবের সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিও সৃষ্টি হবে না।
কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার অভিযোগ
তবে বিলটির তীব্র বিরোধিতা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত বিধান কোরআন-সুন্নাহর নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কি কোরআনের মূল নীতিকে রাখব, নাকি বাদ দেব? আমাদের কি বাদ দেওয়ার কোনো অধিকার আছে? আমি বিশ্বাস করি, এটি খুবই সংবেদনশীল একটি বিষয়।’
তিনি আরও দাবি করেন, প্রস্তাবিত আইনের সঙ্গে সম্পত্তি বণ্টন ও উত্তরাধিকারসংক্রান্ত বেশ কিছু বিষয় সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে এটি সরাসরি সাংঘর্ষিক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ‘আমি তোমাদেরই লোক’
বিরোধী দলের আপত্তির জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত আইনের অধীনে সম্পত্তি হস্তান্তর বা দান করা হলেও তা কোনোভাবেই হেবা, অছিয়ত কিংবা অন্য কোনো স্বীকৃত পদ্ধতিতে সম্পত্তি হস্তান্তরকে প্রভাবিত করবে না।
তিনি বলেন, ‘এটা খুবই পরিষ্কার যে, এই আইনের অধীনে সম্পত্তি হস্তান্তর বা দান করা হলে কোনোভাবেই সেটি হেবা, অছিয়ত বা অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তরকে প্রভাবিত করবে না। অসহায়, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পাশে থাকার জন্যই এই আইন।’
পরে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ বিলটির ওপর ভোটের প্রস্তাব দেন। ভোট গ্রহণের সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে যান। এরপর কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
