ফেনীতে মাসুম হত্যা মামলা
শেখ হাসিনা–ওবায়দুল কাদেরসহ ১৭৮ জনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞপ্তি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম
শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি
ফেনীতে গণঅভ্যুত্থানকালে ছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যা মামলায় আত্মগোপনে থাকা ১৭৮ জন আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে।
শনিবার (১৩ জুন) একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ফেনীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ছালামাত উল্লাহ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৮৭ ও ৮৮ ধারার অধীনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
আদালতের কাছে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, তারা গ্রেপ্তার এড়াতে পলাতক বা আত্মগোপনে রয়েছেন এবং শিগগির গ্রেপ্তারের সম্ভাবনাও নেই।
এ অবস্থায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯-বি(১) ধারার ক্ষমতাবলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ফেনীর মহিপালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১৬২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়।
২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর নিহত শিক্ষার্থী মাহবুবুল হাসান মাসুমের ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান ফেনী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই ফেনী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন ২২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতের বিচারক মোহাম্মদ হাসান অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে শেখ হাসিনাসহ ১৭১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার উল্লেখযোগ্য অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, ফেনী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল, দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি দিদারুল কবির রতন, পরশুরাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন, ছাগলনাইয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. মোস্তফা, সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম পিটু, জিয়া উদ্দিন বাবলু এবং আওয়ামী লীগ নেতা জালাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী পাপ্পুসহ অনেকে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলি চালানোর জন্য প্ররোচনা, উসকানি ও নির্দেশনা দেওয়ার সঙ্গে আসামিরা জড়িত ছিলেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৫১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে চার্জশিটভুক্ত কয়েকজন আসামির জামিন পাওয়ার ঘটনায় শহীদ পরিবার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ফেনীর মহিপালে সংঘর্ষের সময় ছাগলনাইয়ার আবদুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মাহবুবুল হাসান মাসুম গুলিবিদ্ধ হন। তার মাথা, বুক ও পিঠে গুলি লাগে। পরে তাকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ৭ আগস্ট তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেদিন সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ওইদিনের সহিংসতায় মোট নয়জন নিহত হন।
