জামিন পেলেন রিজেন্টের সেই সাহেদ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
এক কোটি টাকার নির্মাণসামগ্রী গ্রহণ করে মূল্য পরিশোধ না করার অভিযোগে দায়ের করা প্রতারণার মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমের ১০ দিনের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন জানান, মামলার বাদীর সঙ্গে আপসের শর্তে পাঁচ হাজার টাকার মুচলেকায় সাহেদ করিমকে ১০ দিনের জামিন দেওয়া হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা চলমান থাকায় তিনি আপাতত কারামুক্ত হতে পারছেন না।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১৩ জুলাই মেসার্স মাসুদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. সাইফুল্লাহ মাসুদ ঢাকার আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে সাহেদ করিমের কাছে নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করা হয়। প্রথমদিকে কিছু অর্থ নগদে পরিশোধ করা হলেও পরে তিনি প্রাইম ব্যাংকের চারটি চেকের মাধ্যমে মোট এক কোটি টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু চেকগুলো ব্যাংকে উপস্থাপন করলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেগুলো ফেরত আসে।
বাদীর দাবি, বিষয়টি জানানো হলে সাহেদ করিম দীর্ঘদিন অর্থ পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন। পরে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তিনি অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রুহুল আমীন জানান, বাদীপক্ষের সঙ্গে আপসের ভিত্তিতে আদালত ১০ দিনের জামিন মঞ্জুর করেছেন। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
এর আগে গত ২০ জুলাই রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকা থেকে মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের প্রায় ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে সাহেদ করিমকে গ্রেপ্তার করে পল্লবী থানা পুলিশ। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগের পর আলোচনায় আসেন রিজেন্ট হাসপাতালের সাবেক চেয়ারম্যান সাহেদ করিম। অস্ত্র, প্রতারণা ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ৩৫টির বেশি মামলা রয়েছে। একই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর অস্ত্র আইনের একটি মামলায় তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় জামিন পাওয়ার পর প্রায় চার বছর কারাভোগ শেষে ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর কারামুক্ত হন তিনি।
