আওয়ামী লীগ আমল
২৫১ গুমের বিচার নিয়ে যা জানালেন চিফ প্রসিকিউটর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ২৫১ জনের গুমের অভিযোগের তদন্ত শেষে চলতি বছরেই বিচার শুরু করার লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২৫১ জনের গুমের ঘটনায় প্রায় একই ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের তুলে নিয়ে গেছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ঘটনাগুলোর মধ্যে সাদৃশ্য থাকায় এগুলোকে ‘ওয়াইডস্প্রেড ও সিস্টেমেটিক’ বা ব্যাপক ও পরিকল্পিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, রোববার ৫৫টি গুম পরিবারের সদস্য ট্রাইব্যুনালে এসেছেন। তাদের জবানবন্দি নিচ্ছেন তদন্ত সংস্থার ১৮ জন কর্মকর্তা। পর্যায়ক্রমে অন্য পরিবারগুলোর সদস্যদেরও জবানবন্দি নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাদের কাছে থাকা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করা হবে।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অপরাধীদের অনেকাংশে চিহ্নিত করতে পেরেছি। কারা কীভাবে তাদের তুলে নিয়ে গিয়েছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেসব জায়গাও প্রায় চিহ্নিত করা হয়েছে।’ তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত এখনই প্রকাশ করতে চান না বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: এনসিপিকে নিয়ে জামায়াতকে সতর্কবার্তা রাশেদ খানের
তিনি আরও বলেন, অন্য মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন। এ ছাড়া বর্তমানে কর্মরত এবং অবসর নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যেও কেউ জড়িত থাকতে পারেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে চলতি বছরের মধ্যেই বিচার শুরুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, চিহ্নিত আসামিদের গতিবিধিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের ভেতরে ও বাইরে আসামিদের আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
গুম পরিবারের যেসব সদস্য সাক্ষ্য দিয়েছেন বা ভবিষ্যতে দেবেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে আবেদন জানানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আমিনুল ইসলাম বলেন, গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরা কোনো ধরনের হামলা বা টার্গেটের শিকার হতে পারেন— এমন আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম যাতে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত বা নাশকতার শিকার না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
গুমের শিকার পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর পক্ষ থেকে ২৫১ জনের গুমের অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির নেতৃত্বে রোববার গুম পরিবারের ৫৫ জন সদস্য ট্রাইব্যুনালে এসে জবানবন্দি দেন। তাদের বক্তব্য গ্রহণ করছেন তদন্ত সংস্থার ১৮ জন কর্মকর্তা।
