সংসদে অর্থমন্ত্রী
জনগণের মাথাপিছু ঋণ কত?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা ১৯ পয়সা। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত হিসাবের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সরকার।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
আরও পড়ুন: ভ্রমণে বাড়ল ডলার খরচের সুযোগ
সংসদ সদস্য জানতে চান, বর্তমানে দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ কত এবং ঋণের চাপ কমাতে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা ১৯ পয়সা।
ঋণের প্রয়োজনীয়তা কমানোর পরিকল্পনা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের নিজস্ব রাজস্ব আয় বাড়ানো, সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহার এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব বাড়িয়ে সরকারের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ব্যয়ে সাশ্রয় ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় এবং কম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খরচ কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এতে সরকারের অর্থায়নের প্রয়োজনও কমবে।
সরকারি ঋণের সুদ ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে বাজারভিত্তিক ঋণ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এর অংশ হিসেবে অভ্যন্তরীণ ঋণবাজার এবং সরকারি সিকিউরিটিজের বাজার আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা
অর্থমন্ত্রী বলেন, সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সীমা অনুসরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার নির্ধারণের উদ্যোগও রয়েছে।
তার মতে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে বেশি ব্যয়ের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো, সরকারের সুদ ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ঋণের কাঠামোয় ভারসাম্য আনা সম্ভব হবে।
অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত ঋণ গ্রহণ ঠেকাতে বার্ষিক ঋণগ্রহণ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নগদ অর্থের চাহিদা, রাজস্ব ও সরকারি ব্যয়ের প্রবাহ এবং ঋণ পরিশোধের সময় বিবেচনায় নিয়ে ক্যাশ ফোরকাস্টিং চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ‘পাবলিক মানি অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৯’-এর বিধান অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এসব সমন্বিত উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দীর্ঘমেয়াদে সরকারের ঋণের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং জনগণের ওপর ঋণের বোঝা কমানো।
