×

আইন-বিচার

‘চেকের মামলায় পাওনা শোধ-সমঝোতা হলে কারাদণ্ড নয়’

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৯ পিএম

‘চেকের মামলায় পাওনা শোধ-সমঝোতা হলে কারাদণ্ড নয়’

ফাইল ছবি

নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট (এনআই অ্যাক্ট), ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় দায়ের করা চেক ডিজঅনার মামলায় চেকে উল্লেখিত আর্থিক দায় পুরোপুরি পরিশোধ এবং পক্ষদ্বয়ের মধ্যে আপস-মীমাংসা হয়ে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো বা কারাদণ্ড বহাল রাখা সমীচীন নয় বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেছেন, চেক ডিজঅনার মামলার মূল উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া বা কারাগারে পাঠানো নয়; বরং পাওনা অর্থ আদায় নিশ্চিত করাই এ ধরনের মামলার প্রধান লক্ষ্য।

এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দায়ের করা একটি ক্রিমিনাল আপিল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৬ সেপ্টেম্বর এ রায় দেন।

‘মো. আবদুল হান্নান মাস্টার বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য’ মামলায় দেওয়া এ রায়ে চেকের অর্থ এবং ব্যাংকের পাওনা পুরোপুরি পরিশোধ করে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে আপস-মীমাংসা হওয়ায় দণ্ডিত ব্যক্তির এক বছরের কারাদণ্ড বাতিল করেছেন আদালত।

মামলার নথি অনুযায়ী, চেকের টাকা ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পাওনা পরিশোধের পর বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস করেন দণ্ডিত ব্যক্তি। এ পরিস্থিতিতে তাকে কারাগারে পাঠানো বা পূর্বের কারাদণ্ড বহাল রাখার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেছেন হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন: ১০৪ বছর বয়সে কারাগারে, মাথায় ১০ বছরের সাজা

ফলে অধস্তন আদালতের দেওয়া এক বছরের কারাদণ্ড বাতিল করে আপিলটি নিষ্পত্তি করেন আদালত।

একই সঙ্গে আপিল দায়েরের আগে অধস্তন আদালতে জমা দেওয়া ১৪ হাজার ১০০ টাকা ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

‘শাস্তি নয়, পাওনা আদায়ই মূল উদ্দেশ্য’

রায়ে হাইকোর্ট স্পষ্ট করে বলেছেন, চেক ডিজঅনার মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া বা কারাগারে রাখা মামলার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য নয়। বরং চেকের মাধ্যমে সৃষ্ট আর্থিক দায় পরিশোধ করানো এবং পাওনাদারের অর্থ আদায় নিশ্চিত করাই এ ধরনের মামলার মূল লক্ষ্য।

তাই চেকে উল্লিখিত অর্থ সম্পূর্ণ পরিশোধ হয়ে গেলে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে বৈধভাবে আপস-মীমাংসা সম্পন্ন হলে শুধু শাস্তি বহাল রাখার জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো সমীচীন হবে না বলে মত দিয়েছেন আদালত।

রায় ঘোষণার সময় আপিলকারীর পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

বিবাদীপক্ষে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের হয়ে ছিলেন আইনজীবী মো. জিসান মাহমুদ। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তাসনুভা কায়সার।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সিরাজুল করিম (রবি)।

হাইকোর্টের এ রায়ের ফলে চেকের আর্থিক দায় পুরোপুরি পরিশোধ ও পক্ষদ্বয়ের মধ্যে আপস-মীমাংসা হয়ে যাওয়ার পরও কারাদণ্ড বহাল রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনি দৃষ্টিভঙ্গি সামনে এলো।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

এসএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নের ফল কবে, জানাল শিক্ষা বোর্ড

এসএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নের ফল কবে, জানাল শিক্ষা বোর্ড

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন, ২ দিন ধরে বন্ধ বিদ্যুৎ-ইন্টারনেট

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন, ২ দিন ধরে বন্ধ বিদ্যুৎ-ইন্টারনেট

‘চেকের মামলায় পাওনা শোধ-সমঝোতা হলে কারাদণ্ড নয়’

‘চেকের মামলায় পাওনা শোধ-সমঝোতা হলে কারাদণ্ড নয়’

টানা পাঁচদিন ছুটি অক্টোবরে, মিলবে যেভাবে

টানা পাঁচদিন ছুটি অক্টোবরে, মিলবে যেভাবে

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App