×

আইন-বিচার

১০৪ বছর বয়সে কারাগারে, মাথায় ১০ বছরের সাজা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম

১০৪ বছর বয়সে কারাগারে, মাথায় ১০ বছরের সাজা

ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জে দুই যুগ আগে সংঘটিত ডাকাতি ও জোড়া হত্যার মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বয়স ও অসুস্থতার বিষয়টি তুলে ধরে জামিন চাওয়া হলেও তা নাকচ করে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আজ ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন নুর মোহাম্মদ। বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নুর মোহাম্মদের পক্ষে আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বয়স ও অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিজ খরচে পরিবহনের মাধ্যমে কারাগারে যাওয়ার অনুমতিও চেয়েছিলেন নুর মোহাম্মদ। তবে আদালত সেই আবেদনও গ্রহণ করেননি।

আরও পড়ুন: অনুলিপি কারাগারে পৌঁছানোর পর মুক্ত হলেন বিদিশা সিদ্দিক

আদালতে নুর মোহাম্মদের আইনজীবী বলেন, তার মক্কেলের বয়স ১০৪ বছর। তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হয় এবং ওষুধ সেবন করতে হয়। বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত এই ব্যক্তি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আপিলের শর্তে তার জামিন চাওয়া হয়।

তবে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দুই যুগ আগে ডাকাতি, জোড়া খুন

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড় বাজার এলাকায় ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় মোশাররফ হোসেন ও আবদুল কবির নামে দুজনকে হত্যা করা হয়।

ডাকাতেরা দোকানের সিন্দুক ভেঙে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর দোকানের মালিক ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তৎকালীন কিশোরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন।

পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলাটি বিচারের জন্য কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

প্রথম রায়ে সাতজনের মৃত্যুদণ্ড

বিচার চলাকালে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর রায় দেন ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।

রায়ে হাবিবুর রহমান হাবিব, শাহ আলম, মইন উদ্দিন ওরফে মঈন উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, আলম, দিলু ওরফে দেলোয়ার হোসেন, শুকুর আলী ও আলতু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

অন্যদিকে জসিম, সিদ্দিক, আমির চান, কবির ও বজলুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং তা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে হারিছ মিয়া নামে এক আসামির মৃত্যু হয়।

আপিলে কমে ১০ বছরের সাজা

পরবর্তী সময়ে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট উচ্চ আদালত আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। অন্য আসামিদের সাজাও বিভিন্ন মেয়াদে পরিবর্তন করা হয়।

সেই পর্যায়ে নুর মোহাম্মদের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রায়ের সময়ও ছিলেন পলাতক

মামলার নথি অনুযায়ী, নুর মোহাম্মদ এ মামলায় হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। পরে আদালত থেকে জামিন নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। এমনকি মামলার রায় ঘোষণার সময়ও তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

দীর্ঘ ২৩ বছর পর মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন ১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদ। এত বয়স ও অসুস্থতার কারণে জামিনের আবেদন করা হলেও আদালত তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার, মানতে হবে ৩ শর্ত

সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার, মানতে হবে ৩ শর্ত

অভিনেত্রী বাঁধনের পাশে জামায়াত

অভিনেত্রী বাঁধনের পাশে জামায়াত

১০৪ বছর বয়সে কারাগারে, মাথায় ১০ বছরের সাজা

১০৪ বছর বয়সে কারাগারে, মাথায় ১০ বছরের সাজা

মার্শাল আর্টের জনক ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলমের জন্মদিন পালন

মার্শাল আর্টের জনক ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলমের জন্মদিন পালন

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App