আছিয়া হত্যা মামলা
হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মাগুরায় আলোচিত ৮ বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রায়টি প্রকাশ করা হয়।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। একই সঙ্গে তার ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ, আপিল খারিজ এবং জেল আপিল নিষ্পত্তি করে রায় ঘোষণা করেন আদালত।
হিটু শেখের ফাঁসির রায় বহাল থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আছিয়ার মা। তিনি পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর সঙ্গে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীন ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও অন্যান্য মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টে একটি নির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠন করেন। ওই বেঞ্চ ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে।
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ মামলার শুনানি শুরু হয় ১১ আগস্ট। সেদিন রাষ্ট্রপক্ষ পেপারবুক উপস্থাপনের মাধ্যমে শুনানি শুরু করে। এরপর ২৩ ও ২৪ আগস্ট ধারাবাহিকভাবে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তিন কার্যদিবস শুনানি শেষে ২৫ আগস্ট আদালত ৩১ আগস্ট রায়ের দিন ধার্য করেন। নির্ধারিত দিনে হাইকোর্ট হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।
যেভাবে ঘটেছিল আছিয়ার মৃত্যু
গত বছরের মার্চের শুরুতে বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল আছিয়া। পরে ৬ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অচেতন অবস্থায় মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এর সাত দিন পর ১৩ মার্চ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। এর আগে ৮ মার্চ আছিয়ার মা মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মাগুরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলাউদ্দিন গত বছরের ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে ১৭ এপ্রিল মামলাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ২০ এপ্রিল অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত।
এরপর ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। ঘটনার দিন গত বছরের ৬ মার্চ থেকে হিসাব করলে ৭৩ দিনের মাথায় বিচারিক আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
