ভারতসহ সব রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: স্পিকার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতসহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তবে এ সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা ও সম্মানের ভিত্তিতে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলা সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত উৎসাহ দেখা যায়নি। একইভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে ভারত আমন্ত্রণ জানায়নি।
তিনি বলেন, অন্যদিকে ভারতের সরকার পতনের পর দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ভারত আশ্রয় দিয়েছে এবং সেখান থেকে তাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটি বাংলাদেশের জন্য কাম্য নয়।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে ভারতও যে কাঙ্ক্ষিত সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী—বর্তমান পরিস্থিতিতে তার প্রতিফলন স্পষ্ট নয়। দুই দেশের মধ্যে এখন মূলত কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ভবিষ্যতে ভালো প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক বজায় থাকবে এবং সেই সম্পর্ক পারস্পরিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতেই গড়ে উঠবে।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, একটি অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের পতন হয়েছে। এরপর প্রায় দুই বছর অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনা করেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইতিহাসের একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ বিএনপিকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছে। নতুন সরকারের বয়স এখন মাত্র সাত মাস।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশের বিভিন্ন স্তর ও খাতে ব্যাপক ধস নেমেছে। হত্যা, খুন, গুম, অর্থপাচার ও দুর্নীতির মতো ঘটনায় তারা রেকর্ড করেছে। দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
স্পিকারের ভাষ্য, এই পরিস্থিতি থেকে দেশকে আবার উন্নয়নের পথে ফিরিয়ে আনতে সময় প্রয়োজন। মাত্র সাত মাসে সবকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে নতুন সরকার ইতোমধ্যে উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করেছে।
তিনি বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দল সংযত থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে দীর্ঘ ১৭ বছরের বঞ্চনা থেকে দেশ ও জনগণকে মুক্ত করা সম্ভব হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী দল উভয়েই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ হলে এর কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের মানুষ এখন বাক্স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সত্য কথা বলার সুযোগ ছিল না। সত্য কথা বলার কারণে অনেককে ক্রসফায়ারে প্রাণ দিতে হয়েছে এবং বহু মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন।
তিনি বলেন, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী ও পারভেজও সত্য কথা বলার কারণে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন।
মতবিনিময় সভায় ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওছার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর, সদস্যসচিব রাইসুল আলমসহ সরকারি কর্মকর্তা এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
