রাগ হওয়ার যত কারণ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মানুষ কেন রেগে যায়? কখনও অন্যের ওপর, কখনও নিজের ওপর, আবার কখনও পরিস্থিতি বা এমনকি কোনো অজানা শূন্যতার কারণে রাগের উদ্রেক হয়।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা রহমান দিনা বলেন, রাগ শুধুমাত্র একটি আবেগ নয়। এর পেছনে লুকিয়ে থাকে অতীত অভিজ্ঞতা, অসহায়ত্ব, প্রত্যাখ্যান, অপূর্ণতা ও মানসিক প্রতিক্রিয়ার জটিল স্তর।
তিনি বলেন, যদি রাগের উৎস বোঝা না যায়, চাপা দেওয়া হয় বা ভুল পথে প্রকাশ করা হয়, তাহলে এটি নিজেকে ও অন্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। রাগ এক ধরনের সংকেত, যা বলে দেয়, ‘কোথাও কিছু ঠিক নেই।’
ডা. দিনা রাগের প্রধান কিছু কারণ ব্যাখ্যা করেছেন-
আত্মরক্ষা: কেউ মিথ্যা বলে বা সত্য গোপন করলে প্রতারণার অনুভূতি জন্মায়। এই প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়াই রাগের সূত্রপাত হতে পারে।
অবমূল্যায়ন ও অপূর্ণতার অনুভূতি: যখন কেউ আমাদের স্বপ্ন, চাওয়া-পাওয়া বা অর্জনকে তুচ্ছ মনে করে, তখন আত্মপরিচয়ে আঘাত লাগে। আমাকে গুরুত্ব দেয়নি, আমি যথেষ্ট নই, এই অনুভূতি ধীরে ধীরে ক্ষোভে পরিণত হয়।
প্রতারণা ও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা: কেউ মিথ্যা বলে নিজেকে উপরে তুলতে চাইলে বা অন্যকে দোষ চাপালে, নিজেকে অপমানিত মনে হয়। এই অনুভূতি থেকে রাগ তীব্র হয়ে ওঠে।
ব্যর্থতা ও লজ্জা: নিজের ভুল স্বীকার না করে রাগ দিয়ে ঢাকার প্রবণতাও রাগের বড় উৎস। প্রত্যাখ্যান বা অবহেলার অনুভূতিও রাগকে আর্তনাদে রূপান্তরিত করে ‘আমাকে বোঝো’, ‘আমাকে দেখো’।
আরো পড়ুন : থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে যে খবারগুলো রাখবেন প্রতিদিনের তালিকায়
আকাঙ্ক্ষা ও ঈর্ষা: অন্যের সাফল্য, জনপ্রিয়তা বা ভালোবাসা যখন হীনমন্যতা ও ঈর্ষা জাগায়, তখন রাগের উদ্রেক হয়।
অভ্যাসগত প্রতিক্রিয়া: যে পরিবেশে মানুষ বেড়ে উঠেছে সেখানে রাগই একমাত্র প্রতিক্রিয়া হিসেবে গড়ে উঠলে, মিথ্যা, অবহেলা বা প্রতারণায় রাগ স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ায় পরিণত হয়।
ডা. দিনা মন্তব্য করেন, রাগ দুর্বলতার চিহ্ন নয়; এটি মানসিক সংকটের জোরালো বহিঃপ্রকাশ।
রাগকে সঠিকভাবে বোঝা ও নিয়ন্ত্রণ করা গেলে সম্পর্ক রক্ষা, আত্মপরিচয় বোঝা এবং সংবেদনশীল সমাজ গঠনের পথ সুগম হয়। রাগের উৎস বোঝা মানেই নিজেকে বোঝা।
