শিশুর স্বাভাবিক আচরণে কেন বিরক্ত হন বাবা-মায়েরা?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
একটি শিশুকে বড় করে তোলা মোটেও সহজ কাজ নয়। তাকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে বাবা-মাকে প্রতিনিয়ত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। তবে বেড়ে ওঠার পথে শিশুর কিছু স্বাভাবিক আচরণ অনেক সময় বাবা-মায়ের কাছে বিরক্তিকর মনে হয়। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব আচরণের বেশিরভাগই শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের অংশ।
অনেক শিশু বাবা-মায়ের তৈরি করা নিয়ম বা রুটিন মেনে চলতে চায় না। প্রায় সবকিছুতেই ‘না’ বলতে দেখা যায় তাদের। এতে অনেক অভিভাবক মনে করেন, শিশুর আচরণ অস্বাভাবিক। কিন্তু শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বয়সে শিশুরা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে এবং নতুন কিছু শিখতে চায় বলেই এমন আচরণ করে।
খাবারের সময়ও শিশুরা নানা ধরনের বায়না করে। কেউ খাবার খেতে চায় না, আবার কেউ খাবার ছুড়ে ফেলে দেয়। এতে স্বাভাবিকভাবেই বাবা-মা দুশ্চিন্তা ও বিরক্তিতে পড়েন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুরা নতুন জিনিস জানতে ও বুঝতে গিয়ে অনেক সময় খাবারের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাই জোর না করে খাবারে বৈচিত্র্য আনার পরামর্শ দেন তারা। নিজের পছন্দের কোনো কিছু না পেলে অনেক শিশু কান্নাকাটি বা জেদ শুরু করে। এ সময় তাদের শান্ত করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট শিশুরা এখনও নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে না। তাই সামান্য কারণেও তারা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়।
একই কাজ বারবার করার অভ্যাসও অনেক শিশুর মধ্যে দেখা যায়। এটি বড়দের কাছে একঘেয়ে বা বিরক্তিকর মনে হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিচিত রুটিন ও একই ধরনের কাজ শিশুকে নিরাপত্তার অনুভূতি দেয়। তাই তারা বারবার একই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
এ ছাড়া অনেক শিশু নিজের খেলনা বা প্রিয় জিনিস অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চায় না। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, তিন থেকে চার বছর বয়স পর্যন্ত এমন আচরণ স্বাভাবিক। ধৈর্য ধরে বারবার বোঝালে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ভাগাভাগি করার মানসিকতা গড়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর এসব আচরণকে সমস্যা হিসেবে না দেখে তাদের স্বাভাবিক মানসিক ও শারীরিক বিকাশের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। ধৈর্য, ভালোবাসা এবং ইতিবাচক দিকনির্দেশনাই শিশুর সুস্থ বিকাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
