নিবিড় পর্যবেক্ষণে শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ মে ২০২১, ০৯:৪৩ পিএম
গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধনীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা স্পেশালাইজড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি আছেন শিশু সাহিত্যিক আলী ইমাম। তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তার জ্ঞান রয়েছে, স্বজন ও সুহৃদদের চিনতে পারছেন, ও হাত-পা নেড়ে সাড়াও দিচ্ছেন। তবে ভেন্টিলেশনে থাকার কারণে কথা বলতে পারছেন না। শুক্রবার (২৮ মে) রাতে এ তথ্য ভোরের কাগজকে জানান, তার ছেলে ডা. তানভীর ইমাম অন্তু।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার রাতে আলী ইমামের মৃত্যু নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়। আলী ইমামের মৃত্যু নিয়ে কোন ধরণের গুজব না ছড়ানোর জন্য সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারিদেরকে অনুরোধ জানান ডা. অন্তু।
শারীরিক নানা জটিলতা নিয়ে গত ২০ মে থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন আলী ইমাম। এর আগে গত বছর তিনি মৃদু স্ট্রোক করেছিলেন।
১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন শিশু সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম। তিনি প্রায় ছয় শতাধিক বইয়ের লেখক।
১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৭ বছর তিনি ইউনিসেফের ‘মা ও শিশুর উন্নয়নে যোগাযোগ কার্যক্রম প্রকল্প’ এর পরিচালক ছিলেন আলী ইমাম। ওই দায়িত্ব পালনকালে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে, জার্মানির মিউনিখে, ব্রাজিলের রিওতে অনুষ্ঠিত ‘চিলড্রেন মিডিয়া সামিটে’ যোগদান করেন। জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত ‘প্রি জুঁনেসি চিলড্রেনস টিভি প্রোডাকশন প্রতিযোগিতা’র (২০০০) জুরির দায়িত্ব পালন করেন।
কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যানেল ওয়ান (২০০৭-২০০৮)-এর মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।
তিনি ছিলেন সার্ক অডিও ভিজ্যুয়াল বিনিময় অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়কারী (২০০০-২০০১)। টেলিভিশন ও বেতারে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের নির্মাতা ও উপস্থাপক হিসেবেও তিনি সমাদৃত ছিলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘হ্যালো, আপনাকে বলছি’ (১৯৯৯-২০০৪) নামে তার উপস্থাপিত সরাসরি অনুষ্ঠানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এছাড়াও বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিখ্যাত প্রামাণ্য শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান ‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া’ (১৯৮০-১৯৮৭) এর আলোচিত প্রযোজক ছিলেন তিনি।
শিশু সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (২০০১) ও শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার (২০১২) ছাড়াও অনেক পুরস্কার লাভ করেছেন। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে তিনি সমগ্র জাপান পরিভ্রমণ করেন।
কিশোর বয়স থেকেই শিশুসাহিত্য চর্চা শুরু করেন তিনি। ১৯৬৮ সালে তিনি পূর্ব-পাকিস্তান শিক্ষা সপ্তাহে বিতর্ক ও উপস্থিত বক্তৃতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত শিশুসাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রকাশনা বিভাগের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন।
