‘সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় ডিআরইউকে শক্তিশালী ভূমিকার আহ্বান’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৭ এএম
ছবি : সংগৃহীত
সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও অধিকার রক্ষায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিকে (ডিআরইউ) আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন গণমাধ্যমের চিফ রিপোর্টাররা।
রোববার দুপুরে ডিআরইউর শফিকুল কবির মিলনায়তনে দেশের জাতীয় দৈনিক, সংবাদ সংস্থা ও অনলাইন গণমাধ্যমের চিফ রিপোর্টাররা ডিআরইউ নেতৃবৃন্দের কাছে এ আহ্বান জানান।
চিফ রিপোর্টারদের নিয়ে ডিআরইউ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তারা বলেন, কল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রশিক্ষণ, ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন এবং ডিআরইউকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক ও স্বাবলম্বী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। একই সঙ্গে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতায় দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে আমার দেশ পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদক ও সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক এমডি এম আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের সরকারি নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু, ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ, পরীক্ষাভিত্তিক নিবন্ধন, এন্ট্রি-লেভেলে ৩৫ হাজার টাকা বেতন এবং সাংবাদিকদের জন্য শক্তিশালী কল্যাণব্যবস্থা গড়ে তুলতে ডিআরইউকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর সিদ্দিক ইসলাম আন্তর্জাতিক মানের সাংবাদিক গড়ে তুলতে এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সংবাদ-এর প্রধান প্রতিবেদক সালাম জুবায়ের বলেন, ডিআরইউ তার ঐতিহ্য ধরে রেখে আরও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ইত্তেফাক-এর শামসুদ্দিন আহমেদ নতুন সাংবাদিক তৈরিতে সুশৃঙ্খল প্রশিক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
ডিআরইউর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সমকাল-এর মসিউর রহমান খান বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে ডিআরইউ পরিচালনা করতে হবে।
ডেইলি স্টার-এর পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের ওপর হামলা-মামলার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কার্যকর আলোচনার পাশাপাশি এআইভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন। সংগ্রাম-এর নাসির উদ্দিন শোয়েব বলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাব যদি সাংবাদিকদের সেকেন্ড হোম হয়, তাহলে ডিআরইউ আমাদের ফার্স্ট হোম। তিনি ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ দুই বছর করার প্রস্তাব দেন।
বাসস-এর দিদারুল আলম বলেন, তরুণ সাংবাদিকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। বাসস (ইংরেজি) বিভাগের প্রধান প্রতিবেদক রাজিব হোসেন ডিআরইউর অরাজনৈতিক ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
মানবজমিন-এর লুৎফর রহমান বলেন, সংবাদের গুণগত মান উন্নয়নে ধারাবাহিক ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। কালের কণ্ঠ-এর শরিফুল আলম সুমন প্রতি বছর এ ধরনের মতবিনিময় সভা আয়োজনের প্রস্তাব দেন। আজকের পত্রিকা-এর শহীদুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জন্য সপ্তাহে দুই দিন ছুটি কার্যকরে ভূমিকা রাখার দাবি জানান।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস)-এর আবুল কাশেম সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষায় ডিআরইউকে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি সরকার থেকে অনুদান আনার ব্যাপারে জোর দেন।
সময়ের আলো-এর মামুন হোসেন সদস্যদের মধ্যে ফেলোশিপ চালুর পাশাপাশি বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন। রাইজিংবিডি-এর নইমুদ্দিন প্রিন্ট, অনলাইন ও টেলিভিশন সাংবাদিকদের জন্য অভিন্ন ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
এ ছাড়া বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম-এর ইসমাইল হোসেন ডিআরইউর কার্যক্রমের মাল্টিমিডিয়া প্রচার বাড়ানোর, আমাদের সময়-এর সাজ্জাদ মাহমুদ খান ভুয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের, দেশ রূপান্তর-এর উৎপল রায় ডিআরইউ প্রাঙ্গণে ব্যাংকের বুথ স্থাপনের এবং টাইমস অব বাংলাদেশ-এর সাইফুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে ভুয়া সাংবাদিকদের প্রবেশ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার আদায়, পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সংগঠনের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে ডিআরইউ অতীতের মতো ভবিষ্যতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। পেশাগত অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা, নিম্ন বেতন, হামলা-মামলা এবং সামাজিক নিরাপত্তার অভাব সাংবাদিকদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে ডিআরইউ নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে।
সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, বর্তমান কমিটি শুধু সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
তিনি জানান, ডিআরইউ প্রাঙ্গণে আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স, সদস্যদের জন্য হেলথ কর্নার, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং সংগঠনের স্থায়ী আয়ের উৎস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সদস্যদের সন্তানদের জন্যও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
সভায় ডিআরইউর তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল জানান, খুব শিগগিরই ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট চালু করা হবে। সেখানে সদস্যদের পাশাপাশি তাদের সন্তানদের জন্য ইংরেজি ভাষা, অ্যাবাকাস, চীনা ভাষা, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অন্যান্য দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।
মতবিনিময় সভায় ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটির সহসভাপতি মেহেদী আজাদ মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক মো. জাফর ইকবাল, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া, কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা, কার্যনির্বাহী সদস্য মাহফুজ সাদি, আল-আমিন আজাদ, মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন, সুমন চৌধুরীসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ডিআরইউকে পেশাদার সাংবাদিকদের মর্যাদাপূর্ণ সংগঠন আখ্যা দিয়ে ডিআরইউর প্রচার-প্রচারণায় বিশেষ ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন গণমাধ্যমের চিফ রিপোর্টাররা।
