×

মধ্যপ্রাচ্য

লিবিয়ায় নিজ বাড়িতে যেভাবে নিহত হলেন গাদ্দাফির ছেলে

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম

লিবিয়ায় নিজ বাড়িতে যেভাবে নিহত হলেন গাদ্দাফির ছেলে

সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি। ছবি : সংগৃহীত

লিবিয়ার প্রয়াত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির সবচেয়ে প্রভাবশালী ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি সশস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন। চার বন্দুকধারী তাঁর ওপর গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে। ৫৩ বছর বয়সী সাইফ রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১৩৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত জিনতান শহরে নিহত হন।

গাদ্দাফি পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–আরাবিয়াকে জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হামলাকারীরা সাইফ আল-ইসলামের বাসভবনের বাগানে তাঁকে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। আল–আরাবিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার আগে বন্দুকধারীরা তাঁর বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরাগুলো অকেজো করে দেয়। পরে তাঁরা সাইফের মুখোমুখি হয়ে গুলি চালায়। স্থানীয় সময় গভীর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে সাইফ আল-গাদ্দাফির একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী ঘটনাটিকে সরাসরি ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সাইফ আল-ইসলামের রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের একজন আবদুল্লাহ ওসমান ফেসবুকে এক পোস্টে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমরা আল্লাহর এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাব। মুজাহিদ সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি আল্লাহর হেফাজতে আছেন।’

আবদুল্লাহ ওসমান ২০২০-২১ সালে একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবেও যুক্ত ছিলেন।

সাইফ আল-ইসলামের জীবন ছিল নাটকীয় ঘটনায় পরিপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে বাবা মুয়াম্মার গাদ্দাফির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হতো। ২০১১ সালে গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি এক দশকেরও বেশি সময় বন্দিজীবন, প্রত্যন্ত পাহাড়ি শহরে আত্মগোপন এবং পরে লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত পুরো নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে বিতর্ক ও অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দেয়।

কোনো আনুষ্ঠানিক পদে না থেকেও চার দশকের বেশি সময় লিবিয়া শাসন করা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পরে সাইফ আল-ইসলামকেই দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। বাবার শাসনামলে তিনি রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন এবং একাধিক কূটনৈতিক আলোচনার নেতৃত্ব দেন। লিবিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগ এবং ১৯৮৮ সালের স্কটল্যান্ডের লকার্বিতে প্যান অ্যাম ফ্লাইট ১০৩ বোমা হামলায় নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আলোচনায় তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

আরো পড়ুন : গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গুলিতে নিহত

লিবিয়াকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একঘরে অবস্থা থেকে বের করে আনতে তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করেন এবং নিজেকে একজন সংস্কারক হিসেবে উপস্থাপন করতেন। সংবিধান প্রণয়ন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানাতেন তিনি। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে পড়াশোনা করা এবং ইংরেজিতে সাবলীল হওয়ায় অনেক পশ্চিমা সরকার তাঁকে লিবিয়ার একটি গ্রহণযোগ্য ও পশ্চিমাবান্ধব মুখ হিসেবে দেখত।

তবে ২০১১ সালে গাদ্দাফির শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হলে সাইফ আল-ইসলাম পরিবার ও বংশের প্রতি অনুগত থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বিদ্রোহীদের ‘ইঁদুর’ আখ্যা দিয়ে তাঁদের দমনে কঠোর অভিযানের অন্যতম পরিকল্পনাকারী হয়ে ওঠেন। সে সময় রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা লিবিয়াতেই লড়াই করব, লিবিয়াতেই মরব।’

বিদ্রোহীরা ত্রিপোলি দখল করার পর সাইফ আল-ইসলাম বেদুইন ছদ্মবেশে প্রতিবেশী দেশ নাইজারে পালানোর চেষ্টা করেন। বাবাকে হত্যার প্রায় এক মাস পর ‘আবু বকর সাদিক ব্রিগেড’ নামের একটি মিলিশিয়া বাহিনী তাঁকে মরুভূমির রাস্তা থেকে আটক করে জিনতানে নিয়ে যায়।

পরবর্তী ছয় বছর আগের বিলাসবহুল জীবনের সম্পূর্ণ বিপরীত ভাবে জিনতানে বন্দী ছিলেন তিনি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিনিধিরা ওই সময় তাঁর সঙ্গে দেখা করে জানান, তিনি তখন বিশ্বের সঙ্গে কার্যত বিচ্ছিন্ন ছিলেন এবং তাঁর একটি দাঁত ভাঙা অবস্থায় ছিল।

২০১৫ সালে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ত্রিপোলির একটি আদালত তাঁকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়। পরে ২০১৭ সালে সাধারণ ক্ষমা আইনের আওতায় মুক্তি পেলেও প্রাণনাশের আশঙ্কায় কয়েক বছর আত্মগোপনে ছিলেন।

২০২১ সালে ঐতিহ্যবাহী লিবীয় পোশাক ও পাগড়ি পরে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে তাঁর প্রার্থিতা ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। গাদ্দাফি শাসনামলে নির্যাতিতদের পাশাপাশি শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও তাঁর প্রার্থিতার বিরোধিতা করে। শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালের দণ্ডাদেশের কারণে তাঁকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়, যা পুরো নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে স্থবির করে দেয় এবং লিবিয়াকে আবারও রাজনৈতিক অচলাবস্থায় ঠেলে দেয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে বিএনপি

৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবে বিএনপি

শেরপুর-৩: জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের দাফন সম্পন্ন, হাজারো  মানুষের ঢল

শেরপুর-৩: জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের দাফন সম্পন্ন, হাজারো মানুষের ঢল

মব ভায়োলেন্স নামে কিছু নেই

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মব ভায়োলেন্স নামে কিছু নেই

সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই বিএনপির লক্ষ্য: ডা. জুবাইদা রহমান

সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই বিএনপির লক্ষ্য: ডা. জুবাইদা রহমান

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App