জামায়াতের এমপির গাড়ি ভাঙচুর, আসামি করায় বিএনপির প্রতিবাদ
তিরক রায় টুলু, পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম
ছবি: বিএনপির সংবাদ সম্মেলন
নেত্রকোনা-৫ পূর্বধলা আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপি। আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় পূর্বধলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ফকির।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “সম্প্রতি পূর্বধলায় সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফাকে ঘিরে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় উপজেলা বিএনপি।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আব্দুর রহিম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আলহাজ বাবুল আলম তালুকদার, যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমীন ফকির, সায়েদ আল মামুন শহীদ ফকির, সেলিম উদ্দিন, আব্দুল গফুর এবং উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি আবুল কাশেমসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ঘটনার পর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং প্রশাসনের সহায়তায় এমপিকে নিরাপদ স্থানে পাঠান।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আবু তাহের তালুকদারকে প্রধান আসামি করে ৬৪ জনের নামে যে মামলা করা হয়েছে, তা “ভিত্তিহীন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিহিংসাপরায়ণ।”
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, “নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের তালুকদার ওই সময় ঢাকায় অবস্থান করছিলেন, যা সহজেই যাচাইযোগ্য। তবু তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।”
এ ছাড়া মামলার কয়েকজন আসামি সম্পর্কে বলা হয়, ৪৭ নম্বর আসামি যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু বক্কর রানা প্রায় তিন মাস ধরে ময়মনসিংহের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন, ২২ নম্বর আসামি মানিক মিয়া দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং ৫৯ নম্বর আসামি আব্দুল্লাহ সাকিব ঘটনাস্থলে সাংবাদিক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—মামলা প্রত্যাহার, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত, নিরীহ নেতাকর্মীদের হয়রানি বন্ধ এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড পরিহার করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।
