যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে পণ্যের দাম, ট্রাম্প বললেন ‘মূল্যস্ফীতি ভালোবাসি’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
ফাইল ছবি
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে। দেশের বাজারে পণ্যের দাম হুহু করে বাড়লেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনেকটা নির্বিকার। এরই মধ্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন তিনি।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মূল্যস্ফীতি ভালোবাসি।’ তার এ মন্তব্যের পর তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে আমেরিকায়। সিনেটের ডেমোক্রেটিক লিডার চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘জনগণের প্রতি তার অবজ্ঞার কোনো সীমা নেই।’
সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির রেকর্ড হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। মে মাসে পণ্যমূল্য গত বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এর আগে এপ্রিল মাসে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।
তবে পরে ট্রাম্প দাবি করেন, তার বক্তব্য বিকৃত করে প্রচার করা হয়েছে। তিনি তার মন্তব্যের ব্যাখ্যায় বলেছেন, যুদ্ধ সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম রয়েছে। যুদ্ধ শেষ হলে পণ্যের দাম দ্রুত নিচে নেমে আসবে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন।
ট্রাম্প জানান, ২০২৬ সালের শুরুতে তিনি আইওয়ায় প্রতি গ্যালন পেট্রোল ১ দশমিক ৮৫ ডলারে বিক্রি হতে দেখেছেন। শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আবারও সেই স্তরে ফিরে আসবে।
যুক্তরাষ্ট্রে টানা তিন মাস ধরে পণ্যের দামে বৃদ্ধি দেখা গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ট্রাম্পের বিমান হামলা শুরু হয়। তখন প্রতি গ্যালন রেগুলার পেট্রোলের গড় দাম ছিল ২ দশমিক ৯৮ ডলার। মে মাসে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৪ দশমিক ১৫ ডলারে ঠেকেছে। সার্বিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল গত বছরের চেয়ে প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বিশ্ববাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, যুদ্ধ এখন থেমে গেলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। মূল্যস্ফীতির এই ঊর্ধ্বগতি আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। কারণ, ভোটারদের কাছে বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের নাম অর্থনীতি।
