ঘুষ না দেওয়ায় ১১ বছরেও এমপিও হয়নি শিক্ষক
খোরশেদ আলম, শেরপুর
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
ছবি : ভোরের কাগজ
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কোহিনূর আলমের অভিযোগ, ঘুষ দিতে না পারায় চাকরির ১১ বছর পার হলেও তিনি এখনো এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। এ কারণে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে দাবি তাঁর।
কোহিনূর আলম উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের হাতিবান্ধা প্রধানপাড়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। জানা গেছে, ২০১৪ সালে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মঞ্জরুল হক তাঁকে বিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। তবে দীর্ঘ ১১ বছরেও তাঁর এমপিও হয়নি।
ভুক্তভোগী শিক্ষকের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে নিয়োগের সময় উন্নয়ন তহবিলের নামে ৭ লাখ টাকা দিতে হয়েছিল। এরপর এমপিওভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্টদের ঘুষ দিতে বলা হয়। কিন্তু সেই অর্থ দিতে না পারায় তাঁর এমপিও আটকে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. জমশেদ আলী জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে মাসুমা নামে এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেখিয়ে তাঁর পরিবর্তে মাসুমা খাতুনের নামে এমপিওর প্রস্তাব পাঠান।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাংটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সত্যতা যাচাই করতে গেলে বিষয়টি সামনে আসে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক জানান, মাসুমা খাতুন নামে কোনো শিক্ষককে তারা চেনেন না এবং এমন কোনো নিয়োগও হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো. জমশেদ আলী বলেন, ‘এমপিওভুক্ত করতে অফিসিয়াল খরচ হয়। কিন্তু কোহিনূর আলম সেই খরচের টাকা দিতে পারছেন না। আমরা তাঁকে বলেছি, আগে আমরা টাকা দিয়ে এমপিও করিয়ে দেব। পরে বেতন পাওয়া শুরু করলে তিনি সেই টাকা পরিশোধ করবেন। কিন্তু তিনি এতে রাজি নন। তাই তাঁর পরিবর্তে অন্যজনকে এমপিওভুক্ত করার চিন্তা করা হচ্ছে।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম ভূঞা এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া যাবে না।’
শেরপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজুয়ান বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
