সেই ১২ বছরের শিশুর নবজাতকের ডিএনএ সংগ্রহ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১১:৩০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে অন্তঃসত্ত্বা হওয়া ১২ বছর বয়সী শিশুটি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নবজাতকের ডিএনএ (DNA) নমুনা সংগ্রহ করেছে। বর্তমানে মা ও নবজাতক সিলেটের একটি সেফহোমে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
মামলার প্রধান আসামি মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের ডিএনএ নমুনা গত ১৭ মে সংগ্রহ করা হয়। সিআইডির পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মামলায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্তারুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশে গত ২৮ জুলাই সিলেটের সেফহোমে গিয়ে ঢাকার সিআইডি ল্যাবের একটি প্রতিনিধি দল নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে। ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলসহ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সিলেট সমাজসেবা অধিদপ্তর ও সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই বিকেলে প্রসববেদনা শুরু হলে শিশুটিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেদিন রাত ১২টার দিকে সে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। হাসপাতালে তিন দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর মা ও নবজাতককে পুনরায় সেফহোমে নেওয়া হয়।
মা ও নবজাতকের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন জানান, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের তত্ত্বাবধানে শুরু থেকেই তার চিকিৎসা চলছিল। প্রসববেদনা শুরু হলে তিনি নিজে গাইনি বিভাগের প্রধানের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। পরে চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় শিশুটির স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়।
তিনি বলেন, ১২ বছর বয়সে সন্তান প্রসব অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যদিও প্রসবের সময় বড় ধরনের কোনো জটিলতা দেখা দেয়নি, তবুও মা ও নবজাতক দুজনই এখনও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। মায়ের বয়স কম এবং নবজাতকের ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় কম হওয়ায় জন্ডিস, নিউমোনিয়া ও অপুষ্টিসহ বিভিন্ন জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করছে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একটি মেডিকেল টিম।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুর মা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হয়ে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে আসামিকে গ্রেপ্তার করে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর ১২ মে আদালতের নির্দেশে ভুক্তভোগী শিশুটিকে সিলেটের একটি সেফহোমে পাঠানো হয়।
