ব্যবসায়ী বিল্লাল হত্যা
৮ জনের নামে মামলা, নারীসহ গ্রেপ্তার ৫
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
শেরপুরে ঝিনাইগাতীতে চাঞ্চল্যকর বিল্লাল হত্যাকাণ্ডে ৮ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। নিহত বিল্লাল হোসেনের ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এ হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এক নারীসহ ৫জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত বিল্লাল হোসেন উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের জারুলতলা গ্রামের গ্রামের মরহুম জুলহাস উদ্দিনের ছেলে।
গত ৪ আগস্ট রাত ১০টায় চা খাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু বিল্লাল হোসেন আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে বহু খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। বুধবার (১২ আগস্ট) বিকালে লাশের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে জারুলতলা এলাকায় অঞ্জনাঝর্ণার পাশে একটি বাঁশঝাড়ের নিচে মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় বিল্লালের অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। নিহত বিল্লালের চোখে-মুখেসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ।
আরও পড়ুন: শ্রীপুরে স্কুল ফিডিংয়ের বনরুটিতে ব্লেড, অভিভাবকদের ক্ষোভ
ময়নাতদন্তের পর আজ বৃহস্পতিবার বিকালে বিল্লাল হোসেনের মরদেহ তার নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বিল্লাল হোসেন ধানের ব্যবসার পাশাপাশি এলাকায় সুদের ব্যবসাও করতেন। এলাকাবাসীর দেয়া তথ্য মতে বিল্লাল হোসেনের সাথে প্রতিবেশি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বেশ কয়েকটি পরিবারের সাথে ওঠাবসা ও তাদের বাড়ি-ঘরে যাতায়াত ছিলো।
বিল্লাল হোসেনের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট মঙ্গলবার খাওয়া-দাওয়া করে রাত ১০টায় চা খাওয়ার কথা বলে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর বাড়ি ফিরে আসেননি। বহু খোঁজাখুজি করেও না পেয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। বুধবার বিকালে স্থানীয় শিশু-কিশোররা জারুলতলা অঞ্জনাঝর্ণায় মাছ ধরতে গেলে ওই মরদেহের পঁচা দুর্গন্ধ পায়। খবর পেয়ে ঝিনাইগাতী থানা পুলিশ বিকাল ৪টার দিকে মাটিখুঁড়ে বিল্লালের অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। লাশের চোখে মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। পাশাপাশি তার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শেরপুরের পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম বলেন, এবিষয়ে নিহতের ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ৮ জনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। একজন নারীসহ ৫জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
