×

ময়মনসিংহ

মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, বাড়ছে ডেঙ্গু আতঙ্ক

Icon

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম

মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, বাড়ছে ডেঙ্গু আতঙ্ক

ছবি: ভোরের কাগজ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা।  বিশেষ করে সন্ধ্যার পর আবাসিক হলসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে মশার উৎপাত দেখা যায়। এতে ক্যাম্পাসজুড়ে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগের আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবন ব্যাঘাত ঘটছে।

সরজমিনে দেখা যায়, মশার অস্বাভাবিক বিস্তারের অন্যতম কারণ হলো যত্রতত্র জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের আশপাশে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না হওয়া এবং বিভিন্ন জায়গার ড্রেনের খোলা অবস্থায় পানির প্রবাহ না থাকার ফলে সেখানে তৈরি হয়েছে মশার নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র। পচনশীল আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ মশার বংশবিস্তারে সহায়ক ভূমিকা রাখছে, যা পুরো ক্যাম্পাসের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।

সম্প্রতি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম সাকিব। গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি। 

ছবি: ভোরের কাগজ

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিকেলের পরপরই আবাসিক হল, রিডিং রুম, ডরমেটরি, দোকানপাট, ক্যাফেটেরিয়া এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির আশপাশে মশার কামড় অসহনীয় হয়ে উঠে। এতে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে, এমনকি অবসরে ক্যাম্পাসে আড্ডা দেওয়ার মুহুর্ত হয়ে উঠছে না।

বিদ্রোহী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান রানা বলেন, আমাদের বিদ্রোহী হলে মশার উপদ্রব গুরুতর। সন্ধ্যা ও রাতে মশার আক্রমণ ব্যাপক আকার ধারণ করে। তাই কয়েল বা মশারি ছাড়া পড়াশোনা করা বা ঘুমানো কষ্টকর। মাঝে মাঝেই কয়েল জ্বালিয়েও কোনো কাজ হয় না। বিশেষ করে আমরা যারা নিচের তলার রুমগুলোতে থাকি, তারা মশার সহজ শিকারে পরিণত হচ্ছি। হলের চারপাশের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা এর মূল কারণ। এই বিষয়ে হল প্রশাসনের উদ্যোগ নেই বললেই চলে; ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মশাবাহিত রোগের তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে।

অগ্নিবীণা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মামুন উর রশিদ বলেন, অগ্নিবীণা হলে মশার উপদ্রব মারাত্মক। বিশেষ করে হলের সামনের কদমতলায় মশার কামড়ের জন্য একমুহূর্ত বসে থাকা যায় না। অতিরিক্ত মশা জন্ম নেওয়ার মূল কারণ অগ্নিবীণা হলের পাশের ড্রেন ও হলের ভিতরের ফাঁকা জায়গায় পানি জমে থাকা। দ্রুত মশানাশক স্প্রে করা না হলে শিক্ষার্থীরা ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়া চক্রবাক ও চন্দ্রবিন্দু ক্যাফেটেরিয়া এলাকাতেও মশার উপদ্রব খুব বেশি। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত পুরো ক্যাম্পাসে মশানাশক স্প্রে করার জোরালো দাবি জানাচ্ছি।

ছবি: ভোরের কাগজ

শিউলিমালা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তাসকেরাতুন নূর বর্না বলেন, সত্যিকার অর্থে শিউলিমালা হলে মশার উপদ্রব অস্বাভাবিক এবং অসহনীয় আকার ধারণ করেছে। সন্ধ্যার পরপরই রুম এবং রিডিং রুমে মশার অত্যাচার এতটাই বাড়ে যে কয়েল জ্বালিয়ে বা মশারি টাঙানো ছাড়া পড়ালেখা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতে স্বাভাবিক পড়াশোনা এবং ঘুমের ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটছে। এমনকি স্বস্তির সাথে নামাজঘরে নামাজ শেষ করাও সম্ভব হয় না। ওয়াশরুম এবং বেসিনে মশার বিচরণ এত বেশি যে দুই-তিন মিনিট দাঁড়িয়ে থাকা অসম্ভব। হলের নিচের খোলা ড্রেন এবং চারপাশের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশই মশার এই চরম বংশবিস্তারের জন্য মূলত দায়ী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মশানিধন স্প্রে করা এবং হলের নিচের ড্রেনসহ চারপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা অতীব জরুরি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের "ব্যথার দান" মেডিকেল সেন্টারের অতিরিক্ত চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তাদেরকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে আমাদের সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি টাঙাতে হবে এবং বাসা-বাড়ি বা ক্যাম্পাসের টব ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা ময়লা পানি দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়া কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে পর্যাপ্ত ডাবের পানি ও অন্যান্য তরল খাবার গ্রহণ করতেতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, সম্প্রতি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং একজন আক্রান্ত হওয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদারকি করছে। গত দুই মাস আগে শুধুমাত্র শিউলিমালা হলে ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধন করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সরঞ্জাম না থাকা এবং পৌরসভার নানান জটিলতার কারণে অন্যান্য হলে ওষুধ ছিটানো সম্ভব হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুততম সময়ে বাকি হলগুলোতে পুনরায় সমন্বিতভাবে মশক নিধন কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে পৌরসভাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বয়লার বিস্ফোরণের পর কেমিক্যাল কারখানায় আগুন

বয়লার বিস্ফোরণের পর কেমিক্যাল কারখানায় আগুন

জাসদ কার্যালয় থেকে প্রায় ৩০০ জন হেফাজতে: পুলিশ

জাসদ কার্যালয় থেকে প্রায় ৩০০ জন হেফাজতে: পুলিশ

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ‘ভুল রাজনীতি’ থেকে সরে আসুন

ডা. শফিকুর রহমান প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ‘ভুল রাজনীতি’ থেকে সরে আসুন

মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, বাড়ছে ডেঙ্গু আতঙ্ক

মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, বাড়ছে ডেঙ্গু আতঙ্ক

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App