চা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৪০০ করার দাবি
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৬:৩৪ পিএম
চা শ্রমিকদের নূণ্যতম মুজুরি ৪০০ টাকা নির্ধারণ এবং সাপ্তাহিক রেশনিং এর দাবিতে সমাবেশ এবং শ্রম প্রতিমন্ত্রী ও চা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশন । মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সমাবেশে ফেডারেশনের এর পক্ষ থেকে এসব দাবি তুলা হয়।
স্মারকলিপি দেবার আগে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের সদস্য সচিব দীপাঙ্কর ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল, করিমপুর চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি গণেশ বড় কুর্মী, করিমপুর চা বাগানের মুন্সিবাজার ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বেলাল হোসেন, রাজনগর চা বাগানের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বিপ্লব মাদ্রাজী পার্সি, চানপুর চা বাগানের শ্রমিক নেতা খায়রুন বেগম ও সন্ধ্যা ভৌমিক, মৌলভি চা বাগানের সিলাষ গাড্ডী ও সজীব বড় কুর্মী প্রমুখ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, চা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন যাবত মজুরি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৪১ ধারায় বর্ণীত মানদণ্ড সমুহ এবং জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন ২০১৫ এর ঘোষণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাবে মজুরি নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। এই দাবিতে গত ২০ মে মৌলবীবাজারের জেলাপ্রশাসকের মাধ্যমে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়।
মজুরি বোর্ডের কাছে চা শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে- দ্রব্যমূল্য, পে স্কেল, জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন বিবেচনা করে চা শ্রমিকদের দৈনিক নগদ মজুরি ৪০০ টাকা দিতে হবে। রেশন হিসাবে প্রত্যেক শ্রমিককে সপ্তাহে ৫ কেজি এবং নির্ভরশীলদের জন প্রতি সপ্তাহে ৩ কেজি চাল এবং প্রতি শ্রমিককে মাসে ২ কেজি চা পাতা দিতে হবে। নিরিখের অতিরিক্ত প্রতি কেজি কাঁচা পাতা উৎপাদনের জন্য এবং ছুটির দিনে কাজের জন্য দ্বিগুণ হারে মজুরি দিতে হবে।
এছাড়া চাষাবাদের জন্য প্রদত্ত জমির জন্য সরকার নির্ধারিত ভূমিকরের অতিরিক্ত রেশন কাটা যাবে না। স্বাস্থ্য সম্মত বাসস্থান ,স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ খাবার পানির সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দেশের সকল চা বাগানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পর্যাপ্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করা, চা শ্রমিক সন্তানদের উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষাভাতার ব্যবস্থা করা, প্রতি বাগানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা উপকরণ, ডাক্তার ও ঔষধদের সরবারহ নিশ্চিত করতে হবে। বাগানের বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে চিকিৎসা ব্যায় মালিকদের বহন করার দাবি জানান ফেডারেশনের নেতারা।
