জিহাদে যাচ্ছি, চিঠি লিখে ঘর ছাড়লেন তরুণ
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৪, ০৯:১০ পিএম
ছবি: প্রতীকী
রাজধানীর খিলগাঁও এলাকা থেকে এক যুবক রহস্যজনক নিখোঁজ হয়েছে। ঘর ছাড়ার পর তার বিছানায় একটি চিঠি পেয়েছে পরিবারের সদস্যরা। যাতে জিহাদে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত ১৩ জুলাই খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর- ৮৮৮) করা হয়েছে। ওই তরুণকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ। চিঠির লেখা আবদুল কাদির নামে ওই তরুণের হলেও তিনি কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন কিনা- সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চিঠিতে ওই তরুণ লেখেন, বিসমিল্লাহির রহমানের রহিম। আমার প্রাণ প্রিয় বাবা-মা, আপনাদের প্রতি সালাম। সালাম আমার পরিবারের প্রতি, আল্লাহ আপনাদের সবাইকে শান্তিতে রাখুক। বিদায় আপনাদের বিদায়। আমি আমার রবের ডাকে সাড়া দিলাম এবং নিয়ত করলাম জিহাদের জন্য। আব্বা কষ্ট পাবেন না, আমার জন্য কষ্ট পাবেন না। আমার আল্লাহ আপনাদের সহায় হোক। আত্মীয়দের কাছে- যদি পারেন আমার জন্য ক্ষমা ও দোয়া চান। আল্লাহ আপনাদের ও আমাকে হেফাজত করুন। আমার জন্য কান্না করবেন না। আল্লাহই আপনাদের এবং আমার একমাত্র অভিভাবক। ইতি আপনার সন্তান আবদুল কাদির।
আবদুল কাদিরের বাবা মো. রফিকুল ইসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, ১৩ জুলাই আবদুল কাদির ফজরের নামাজ পড়তে জায়নামাজ নিয়ে মসজিদে যায়। এরপর থেকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার ছেলে গ্লোবাল আইডিয়াল স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে বর্তমানে একটি পলিটেকনিকে পড়ছে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলের পাশাপাশি মাদ্রাসাতেও পড়তো।
ছোটবেলা থেকেই মসজিদে জামায়াতে নামাজ পড়ার বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিতো। অনেকসময় ফজরের আযান দেয়া এক দুই ঘণ্টা আগেই মসজিদে চলে যেত। মোবাইলে কোরআন তেলাওয়াত শুনতো। কিন্তু কখনো এভাবে ঘর ছাড়বে- সেটি আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি। এ ঘটনায় খিলগাঁও থানায় জিডি করার পর পুলিশ ফোনের লোকেশন বেনাপোল পেয়েছে। আমি বেনাপোল গিয়ে খুঁজেও আমার ছেলেকে পাইনি। ওর পাসপোর্ট নাই- এরপরও সীমান্তে কি কারণে গেলো- কারা নিয়ে গেলো? কিছুই বুঝতে পারছি না।
খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, এ ঘটনায় একটি জিডি দায়ের হওয়ার পর আমি নিজে ওই তরুণের বাসায় গিয়েছি। জিহাদে যাচ্ছি- চিঠিতে এমন উল্লেখ করায় কাউন্টার টেররিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটকে অবগত করা হয়েছে। থানা পুলিশ ও সিটিটিসি যৌথভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। আশা করি দ্রুতই ওই তরুণের সন্ধান পাওয়া যাবে।
