পিটুনিতে আহত বুয়েট শিক্ষার্থীকে দেখতে হাসপাতালে প্রধান উপদেষ্টার ২ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৫৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত
প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের পিটুনিতে আহত বুয়েট শিক্ষার্থী সৈয়দ শাদিদ নাসিফের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে প্রধান উপদেষ্টার দুই বিশেষ সহকারী শেখ মইনুদ্দিন এবং ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছেন। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় সেখানে তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন তারা।
বুয়েটের ২০২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী শাদিদ ঢাকা মেডিকেলে কলেজের ইমার্জেন্সি বিভাগে চিকিৎসাধীন। সেসময় কেবিনে তার বাবা, মা ও বোনসহ কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শাদিদের মা বেশ আবেগঘন হয়ে পড়েন এবং তার সন্তানসহ শিক্ষার্থীদের ওপরে যেকোনো ধরনের বল প্রয়োগের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে সেই নিশ্চয়তা চান।
প্রতিনিধিদল বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ পুলিশের ডিএমপি প্রধানের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিনিধি দল পরিবারের সব সদস্যের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। শাদিদের বাবা রংপুরে একটি কলেজের শিক্ষক এবং বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। রংপুর থেকে আসা পরিবারের অপর সদস্যদের উপস্থিতিতে দুই বিশেষ সহকারী পরিবারের সদস্যদেরকে শিক্ষার্থী শাদিদের সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তাসহ প্রয়োজনে যেকোনো উন্নততর চিকিৎসার আশ্বাস দেন।
এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, শাদিদের অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি এই মুহূর্তে স্থিতিশীল আছেন। তবে পাঁচটি দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, চিকিৎসক দল পঞ্চম দিন অতিবাহিত হবার পরে সেলাই পরিস্থিতি বিবেচনায় রোগীকে আইসিইউতে স্থানান্তর করতে হবে কিনা সেই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।
প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টা এবং প্রকৌশলীদের চাকরির অসন্তোষ সমাধানে গঠিত কমিটির উপদেষ্টা এম ফাওজুল কবির খানের পক্ষ থেকে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। সাপোর্ট স্টাফ, নার্স, চিকিৎসকদলসহ সবাইকেই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
পরবর্তীতে প্রতিনিধি দল শাদিদের বুয়েট’২০ ব্যাচের কয়েকজন সহপাঠী এবং উপস্থিত প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের সংগঠকদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন। এসময় সবাই মিলে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি শাদিদের সহপাঠীরা স্নাতক প্রকৌশলীদের দাবির একটি যৌক্তিক এবং শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির ব্যাপারে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।