রবিবার দোকান বন্ধের ডাক মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীদের
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৩২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রবিবার (২৯ নভেম্বর) দেশব্যাপী দোকান বন্ধের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)। ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার’ (এনইআইআর) চালুর আগে ব্যবসায়ীদের দাবিগুলো অন্তর্ভুক্তের দাবিতে সংগঠনটি সারাদেশে মোবাইল হ্যান্ডসেট বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। রাজধানী ঢাকার বড় বড় বিপণিবিতানসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে একইভাবে এই কর্মসূচি পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এমবিসিবি বলছে, আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে চালু হতে যাওয়া এনইআইআর ব্যবস্থার নীতিমালায় দেশের প্রায় ২০ হাজার ব্যবসায়ীর কোনো স্বার্থ বিবেচনা করা হয়নি। তাই সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে তাদের এই কর্মসূচি।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ পিয়াস বলেন, 'আমরাও চাই এনইআইআর ব্যবস্থা চালু হোক, কিন্তু আমাদের মতো সাধারণ ব্যবসায়ী এবং এই ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ মানুষের রুজি রুটি নষ্ট করে নয়। প্রস্তাবনা এখন যে পর্যায়ে আছে, তাতে শুধু একটি গোষ্ঠীই এখানে লাভবান হবে, আর ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমরা সহ দেশের সাধারণ গ্রাহক ও ভোক্তা শ্রেণী। আমরাও সরকারকে যথাযথ রাজস্ব দিয়ে আনুষ্ঠানিক উপায়ে হ্যান্ডসেট আমদানি করে ব্যবসা করতে চাই, কিন্তু একটি গোষ্ঠীর ফয়দা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মহল আমাদের দাবিতে কর্ণপাত করছে না। আমাদের দাবি বিটিআরসি বিবেচনা করছে, এমন নজিরও দেখছি না। তাই এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছি।'
দোকান বন্ধের পাশাপাশি দেশজুড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও জানান পিয়াস।
তিনি বলেন, 'দোকান বন্ধ করে রাজধানীসহ পুরো দেশের ব্যবসায়ীরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে। একচেটিয়া সিন্ডিকেট নীতি বন্ধ, ন্যায্য করনীতি এবং মোবাইল ফোনের উন্মুক্ত আমদানির সুযোগ সৃষ্টির দাবিতে রবিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজার-পান্থপথ এলাকায় এক শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের উদ্দেশ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে জনমত গঠন করা। এর আগে ১৮ নভেম্বর গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হাসিনার ভাড়াটে গুণ্ডাবাহিনীর মতো ব্যবহার করে অনলাইন এডিটর অ্যালায়েন্সের সেক্রেটারি ও দৈনিক ভোরের কাগজের অনলাইন হেড মিজানুর রহমান সোহেলকে এবং আমাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল, আমাদের সংবাদ সম্মেলন বানচাল করতে। প্রবল সমালোচনা এবং গণবিক্ষোভের মুখে আমাদের ছেড়ে দিলেও, আমাদের সাথে সরকারের কোনো পক্ষ আলোচনায় বসেনি। আমাদের দেওয়া চিঠিরও জবাব দেয়নি বিটিআরসি। কাজেই সরকারের কাছে দাবি দাওয়া পেশ করতে এবং সেগুলো যেন তারা বিবেচনা করেন; সেই লক্ষ্যে এই মানববন্ধন এবং দোকান বন্ধের কর্মসূচি পালন করা হবে।'
প্রসঙ্গত, আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে হ্যান্ডসেট নিবন্ধন ব্যবস্থা তথা এনইআইআর চালুর ঘোষণা দিয়েছে বিটিআরসি। তবে এর কিছু শর্ত নিয়ে আপত্তি রয়েছে সাধারণ মোবাইল বিক্রেতাদের। এ জন্য দীর্ঘদিন যাবত সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন তারা।
