পোস্টাল ব্যালট কীভবে গণনা করা হবে?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পোস্টাল ব্যালট গণনা ও সংরক্ষণ বিষয়ে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতেই এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইসি জানায়, পোস্টাল ব্যালট গণনার ক্ষেত্রে প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের নির্ধারিত নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
গণনা শুরুর প্রস্তুতি ও প্রাথমিক পদক্ষেপ
প্রিজাইডিং অফিসার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করে পোস্টাল ভোট গণনায় প্রিজাইডিং অফিসারের উপস্থিতি ফর্মে স্বাক্ষর করবেন।
গণনা কার্যক্রমের সময় আসনভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের একজন করে পোলিং এজেন্ট উপস্থিত থাকবেন।
ভোটগ্রহণের দিন বিকেল সাড়ে চারটার পর রিটার্নিং অফিসার পোস্টাল ব্যালট ভর্তি ব্যালট বাক্স প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে হস্তান্তর করবেন।
উপস্থিত পরিদর্শক, সাংবাদিক ও পোলিং এজেন্টদের সামনে ব্যালট বাক্সের বারকোড নম্বর উচ্চস্বরে পাঠ করতে হবে।
প্রিজাইডিং অফিসারের নির্দেশনায় পোলিং অফিসাররা পোস্টাল ব্যালট ও ঘোষণাপত্রসংবলিত খাম খুলবেন।
ঘোষণাপত্র এবং সাধারণ ভোট ও গণভোটের ব্যালটসম্বলিত ছোট খামগুলো আলাদা করে রাখবেন।
ব্যালট পেপার ও ঘোষণাপত্র যাচাইকরণ
প্রবাসী ভোটারদের ক্ষেত্রে ফর্ম-৭ ব্যবহার করা হবে, যেখানে প্রার্থীর নাম না থাকলেও রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক মুদ্রিত থাকবে।
দেশে অবস্থানরত ভোটারদের ক্ষেত্রে ফর্ম-৭(ক) ব্যবহৃত হবে, যেখানে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক উভয়ই মুদ্রিত থাকবে।
ঘোষণাপত্রে ভোটারের স্বাক্ষর আছে কি না তা নিবিড়ভাবে যাচাই করতে হবে।
আরো পড়ুন : নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না ভারত
ঘোষণাপত্র না থাকলে বা স্বাক্ষর অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট পোস্টাল ব্যালট বাতিল হিসেবে গণ্য হবে এবং তাতে ‘বাতিল’ সিল দেওয়া হবে।
বাতিলকৃত ব্যালটের ওপর ‘ঘোষণাপত্র নাই’ অথবা ‘ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর নাই’ উল্লেখ করে প্রিজাইডিং অফিসার স্বাক্ষর করবেন।
ভোট গণনা ও ফলাফল লিপিবদ্ধকরণ
প্রিজাইডিং অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী পোলিং অফিসাররা সাধারণ ভোট ও গণভোট আলাদাভাবে গণনা করবেন।
আসনভিত্তিক প্রার্থীদের প্রাপ্ত বৈধ ব্যালট আলাদা করে সংরক্ষণ করতে হবে।
সাধারণ ভোটের ফলাফল ফর্ম-১৬(ক)-তে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
গণভোটের ফলাফল (হ্যাঁ/না অনুযায়ী) ফর্ম-৪-এ লিপিবদ্ধ করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের পক্ষে উপস্থিত পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষর ফলাফল ফরমে নিতে হবে।
প্যাকেটজাতকরণ ও সংরক্ষণ
প্যাকেট ১: প্রার্থীদের পক্ষে প্রদত্ত সকল বৈধ ব্যালট।
প্যাকেট ২: অবৈধ বা বাতিলকৃত ব্যালট বা ফর্ম-৭।
প্যাকেট ৩: প্যাকেট ১ ও ২ একত্রে এই প্যাকেটে ভরে মুখ বন্ধ করতে হবে।
প্যাকেট ৯: পোস্টাল ব্যালট পেপারের রেজিস্টার (ফর্ম-১২)।
প্যাকেট ১৪: ফলাফল বিবরণী (ফর্ম-১৬ ক)।
প্যাকেট ১৬: ফেরত খাম (ফর্ম-১০ ও ১০-খ), স্বাক্ষরযুক্ত ঘোষণাপত্র (ফর্ম-৮) এবং ত্রুটিপূর্ণ বাতিল ঘোষণাপত্র ও সাদা খাম (ফর্ম-১০ ক)।
গণভোটের ক্ষেত্রে বৈধ ব্যালট প্যাকেট ১-এ, অবৈধ ব্যালট প্যাকেট ২-এ এবং ফলাফল বিবরণী (ফর্ম-৪) প্যাকেট ৬-এ রাখতে হবে।
সবশেষে, সকল প্যাকেট একটি হেশিয়ান বা চটের ব্যাগে ভরে ভালোভাবে মুখ আটকে সিলগালা করতে হবে। প্রিজাইডিং অফিসার অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এই সিলগালাকৃত ব্যাগ এবং ফলাফল বিবরণী (ফর্ম-১৬ ক) সম্বলিত প্যাকেট ১৪ রিটার্নিং অফিসারের নিকট হস্তান্তর করবেন।
নির্বাচন কমিশনের মতে, সঠিকভাবে পোস্টাল ব্যালট গণনা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে।
