রাজধানীর ফিলিং স্টেশন
তেল আছে, নেই ক্রেতার ভিড়
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মাত্র দুই-তিন দিনের ব্যবধানে বদলে গেছে রাজধানী ঢাকার ফিলিং স্টেশনগুলোর চিত্র। গত দেড় মাস ধরে যেখানে জ্বালানি তেল নিতে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হতো, সেখানে এখন অনেক স্টেশনেই বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় কয়েক দিনের মধ্যেই উপচে পড়া ভিড় প্রায় উধাও হয়ে গেছে। অনেক স্টেশনে দীর্ঘ সময় কোনো গাড়ি না আসায় কর্মীদের বিশ্রামে থাকতে দেখা গেছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টার পর মুগদা, রাজারবাগ, আরামবাগ, মৎস্য ভবন ও মতিঝিলসহ অন্তত আটটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
মুগদা-এর শান্ত সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশনে দেখা যায়, তেল নেওয়ার জন্য মাত্র দুটি মোটরসাইকেল অপেক্ষা করছে। ওই সময় একটি তেলবাহী গাড়ি থেকে অকটেন নামানো হচ্ছিল। স্টেশন কর্মীরা জানান, গত রোববার থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে, ফলে ভিড় অনেকটাই কমে গেছে।
মতিঝিল-এর মেসার্স পূবালী ফিলিং স্টেশন ও করিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দেখা যায়, কোনো মোটরসাইকেলের লাইন নেই। মাঝে মাঝে দু-একটি গাড়ি এলেও দ্রুতই স্টেশন ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।
দৈনিক বাংলা এলাকার নাভানা সিএনজি স্টেশনে দুপুর পৌনে ১টার দিকে মোটরসাইকেলের লাইন ছিল না, তবে কিছু প্রাইভেটকার অপেক্ষায় ছিল।
অন্যদিকে রমনা ফিলিং স্টেশনে ৮-১০টি মোটরসাইকেল লাইনে থাকলেও প্রাইভেটকারগুলো সরাসরি তেল নিতে পারছে। আরামবাগ ও রাজারবাগ এলাকার স্টেশনেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে -অল্পসংখ্যক যানবাহন ও কোনো জটলা নেই।
ফিলিং স্টেশন কর্মীরা জানান, ডিপো থেকে এখন নিয়মিত ও পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দাম বৃদ্ধির কারণে অনেকেই অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করছেন না।
ফলে যানবাহনগুলো এখন চাহিদামতো জ্বালানি নিতে পারছে এবং অধিকাংশ গাড়িতেই পর্যাপ্ত তেল থাকায় নতুন করে চাপ কমে গেছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলো বেশি ফাঁকা থাকছে। তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও গ্রাহক চাহিদা কমে যাওয়ায় আগের মতো দীর্ঘ সারি আর দেখা যাচ্ছে না।
