৬ চীনা নাগরিকসহ অনলাইন জুয়া চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগ এলাকায় কয়েকটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ছয় চীনা নাগরিকসহ অনলাইন জুয়া ও অর্থ পাচার চক্রের নয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ-এর গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
অভিযানে বিভিন্ন ফ্ল্যাট থেকে শতাধিক সিম কার্ড, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন এবং জিএসএম গেটওয়ে ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়া পরিচালনা ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
বুধবার সকালে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন ছয় চীনা নাগরিক- এম এ জি (৩৩), ঝাং জিয়াহাও (২২), লিও জিনজি (৩২), ওয়াং শিবো (২৪), চাং তিয়ানতিয়ান (২৯) ও জেমস ঝু (৪৩)। এছাড়া বাংলাদেশি তিনজন হলেন মো. কাউসার হোসেন (২৪), মো. আবদুল করিম (২৮) এবং রোকন উদ্দিন (৪০)।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় ফেসবুক, ইউটিউব, টেলিগ্রাম গ্রুপ ও বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইটে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন এবং বিকাশ-নগদের মাধ্যমে অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে দ্রুত লাভের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছিল।
তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানার ১৩ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে কাউসার, করিম ও রোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে তুরাগ থানার রুপায়ন হাউজিং এস্টেট এলাকা থেকে ছয় চীনা নাগরিককে আটক করা হয়।
অভিযানে উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে তিনটি ৬৪-পোর্ট মেশিন, একটি ৮-পোর্ট মেশিন, একটি ২৫৬-পোর্ট মেশিন, বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের প্রায় ২৮০টি সিম কার্ড, একাধিক ল্যাপটপ, ২০টি স্মার্টফোন, নগদ ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা, বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি Toyota Microbus।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানিয়েছেন, তারা অনলাইন জুয়া, প্রতারণা, অবৈধ ই-ট্রানজেকশন এবং অর্থ পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত। তারা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্যের নামে নিবন্ধিত এমএফএস এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে জিএসএম গেটওয়ে ডিভাইসের মাধ্যমে একসঙ্গে শতাধিক সিম সক্রিয় রাখতেন। পরে এসব সিম ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেন ও অন্যান্য অবৈধ আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো।
