বাকুতে প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণ
বিশ্ব নগর ফোরামে ‘টেকসই নগর’ গঠনের অঙ্গীকার বাংলাদেশের
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১০:২৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে শুরু হয়েছে বিশ্ব নগর ফোরামের ত্রয়োদশ (ডব্লিউইউএফ১৩) অধিবেশন। গত ১৭ মে (রোববার) থেকে শুরু হওয়া এই অধিবেশন চলবে ২২ মে শুক্রবার পর্যন্ত। এবছর এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আনাক্লডিয়া রসব্যাক। উদ্বোধনের পর নতুন নগর এজেন্ডা নিয়ে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের অধিবেশনে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোস. ফেরদৌসী বেগমের নেতৃত্বে এই দল সম্মেলনে যোগ দিয়েছে। প্রতিনিধি দলে আরো আছেন পূর্ত মন্ত্রণালয়ে উপসচিব মো. আব্দুল আউয়াল, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম এবং স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি মো. আসিফুর রহমান ভূঁইয়া। বাংলাদেশ ছাড়াও মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়াসহ আরো ৫৫টির বেশি দেশের প্রতিনিধিরা এই অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন। অধিবেশনে উপস্থিত সব দেশের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং নিরাপদ নগর গড়ে তোলার বিষয়ে তাদের স্ব স্ব অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
২০১৬ সালে নেয়া নতুন নগর এজেন্ডা এখনো বিশ্বজুড়ে নগর উন্নয়নের দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল তাদের দেশের চলমান নগর উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে।
অধিবেশনে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দেয়।
প্রথমত, পরিকল্পিত নগরায়ন ও আঞ্চলিক উন্নয়ন। সারাদেশে পরিকল্পিত নগর বৃদ্ধি এবং জনসংখ্যা ও সম্পদের ভারসাম্য রাখতে নতুন স্থানিক পরিকল্পনা আইনের কথা তুলে ধরা হয়। পূর্বাচল নতুন শহর, ঝিলমিল আবাসিক এলাকা এবং উত্তরা তৃতীয় পর্বের মতো প্রকল্প ঢাকার চাপ কমাতে সাহায্য করছে বলেও অধিবেশনে তুলে ধরে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল।
দ্বিতীয়ত, সাশ্রয়ী আবাসন। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থান সহজ করতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প চালাচ্ছে। টঙ্গী দত্তপাড়া ও কড়াইল বস্তি উন্নয়ন প্রকল্পসহ নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়।
তৃতীয়ত, জলবায়ু সহনশীল নগর। টেকসই ভবন, সরকারি আবাসন কর্মসূচি এবং নিরাপদ নগর গড়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। পাশাপাশি পুরান ঢাকা এলাকার উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়। চতুর্থত, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। ইউএন হ্যাবিট্যাট, বিশ্বব্যাংক, ইউএনওপিএস এবং ইউএনইএসক্যাপের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমে তাদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করা হয়।
ইউএন হ্যাবিট্যাটের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় কার্যালয় এবং বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিস এই অঞ্চলে নগর উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে ইউএনইপি এবং ইউএনওপিএসও সহায়তা দিচ্ছে। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নগর উন্নয়ন, পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে আরো এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
