×

জাতীয়

৭৩ শতাংশ রাজস্ব জাপানকে দিয়ে চালু হচ্ছে থার্ড টার্মিনাল

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ১২:১২ পিএম

৭৩ শতাংশ রাজস্ব জাপানকে দিয়ে চালু হচ্ছে থার্ড টার্মিনাল

ছবি : সংগৃহীত

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। পরিচালনা-সংক্রান্ত প্রায় সব প্রক্রিয়া শেষ করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এখন বাকি শুধু পরিচালনা চুক্তি স্বাক্ষর। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ১৬ জুলাই চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে এবং ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনাল উদ্বোধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বেবিচকের সদস্য (অপারেশন) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, সবকিছু প্রায় চূড়ান্ত। গত ১৭ মে জাপানি প্রতিষ্ঠানকে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) জমা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ৪২ দিনের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কথা। সে অনুযায়ী জুনের মধ্যেই প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, ১৬ জুলাই চুক্তি স্বাক্ষরের আশা করা হচ্ছে। সরকার ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনাল চালুর যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, সে অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নানা জটিলতা ও কয়েক দফা দরকষাকষির পর থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার কাঠামো প্রায় চূড়ান্ত। বহুল আলোচিত এই প্রকল্পে রাজস্ব ভাগাভাগিতে বড় অংশ পাচ্ছে জাপানি কনসোর্টিয়াম।

প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী, পরিচালনাসংশ্লিষ্ট চারটি প্রধান খাত থেকে আদায় হওয়া রাজস্বের ৭৩ শতাংশ পাবে জাপানি পক্ষ, আর বাংলাদেশ পাবে ২৭ শতাংশ।

সূত্রগুলো বলছে, টার্মিনালের অবকাঠামো নির্মাণকাজ প্রায় দুই বছর আগেই শেষ হলেও পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, আয় বণ্টন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে এটি চালু করা যায়নি। সম্প্রতি সরকার জাপানি পক্ষের প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়ার পর আলোচনা নতুন গতি পায়। অতিরিক্ত কাজের বিল পরিশোধের প্রক্রিয়াও এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

এরপর বাংলাদেশ সরকার ও জাপানি পক্ষের মধ্যে একাধিক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে পরিচালনা কাঠামো, সেবার মান, প্রযুক্তি ব্যবহার, আন্তর্জাতিক অপারেশন এবং রাজস্ব বণ্টন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

চূড়ান্ত প্রস্তাব অনুযায়ী, থার্ড টার্মিনালের চারটি প্রধান খাত- এমবার্কেশন ফি, দোকান ও লাউঞ্জ ভাড়া, কার্গো হ্যান্ডলিং চার্জ এবং কার পার্কিং ফি—থেকে রাজস্ব সংগ্রহের দায়িত্ব থাকবে জাপানি কনসোর্টিয়ামের হাতে। এসব খাত থেকে অর্জিত আয়ের ৭৩ শতাংশ পাবে তারা, আর ২৭ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ।

তবে বিমানবন্দরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাত সরাসরি বেবিচকের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে ওভারফ্লাইং চার্জ ও বিমান অবতরণ ফি। পাশাপাশি কাস্টমস, নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রমও বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। ফলে কৌশলগত ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতেই থাকবে।

বিষয়টি নিয়ে সরকারের ভেতরে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দেশের আর্থিক স্বার্থ, ঋণ পরিশোধ, পরিচালন ব্যয় এবং কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ—সব দিক বিবেচনা করে নীতিনির্ধারকেরা সিদ্ধান্তে পৌঁছান বলে জানা গেছে।

জাপানি পক্ষের প্রস্তাবে যাত্রীসেবা, কার্গো ব্যবস্থাপনা, ফি সংগ্রহ, অগ্রিম বিনিয়োগ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পূর্ণ কাঠামো উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের মতে, এই মডেল বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ স্থিতিশীল রাজস্ব প্রবাহ নিশ্চিত করতে পারবে এবং জাইকার ঋণ পরিশোধও সহজ হবে।

এছাড়া দ্রুত অপারেশন চালু, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ও কার্গো সম্প্রসারণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে বলে তারা মনে করছেন।

এর আগে জাপানি প্রতিনিধিরা টোকিওর হানেদা ও নারিতা বিমানবন্দর পরিচালনার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তাদের দাবি, সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগামী ১৫ বছরে শাহজালাল বিমানবন্দরের যাত্রী ও কার্গো সক্ষমতা দ্বিগুণ করা সম্ভব।

কর্মকর্তাদের আশা, চলমান অগ্রগতির ভিত্তিতে ডিসেম্বরেই টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

থার্ড টার্মিনাল চালু হলে দেশের বিমান পরিবহন খাতে বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে যাত্রীসেবা আধুনিক হবে, ধারণক্ষমতা বাড়বে, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা সহজ হবে এবং কার্গো পরিবহন ব্যবস্থায় গতি আসবে- যা রপ্তানি খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

পেঁপের দামেও অস্বস্তি

পেঁপের দামেও অস্বস্তি

৭৩ শতাংশ রাজস্ব জাপানকে দিয়ে চালু হচ্ছে থার্ড টার্মিনাল

৭৩ শতাংশ রাজস্ব জাপানকে দিয়ে চালু হচ্ছে থার্ড টার্মিনাল

ব্রয়লার ও ডিমের দাম কমলেও বেড়েছে মাছের বাজার

ব্রয়লার ও ডিমের দাম কমলেও বেড়েছে মাছের বাজার

একদিনে এভারেস্ট জয় ২৭৪ আরোহীর, নতুন রেকর্ড

একদিনে এভারেস্ট জয় ২৭৪ আরোহীর, নতুন রেকর্ড

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App