স্পিকার
এমপিদের সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধির জ্ঞান থাকা আবশ্যক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম আরো কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য বিশেষ ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি শুরু করেছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়।
বুধবার (৩ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে ‘সংবিধান, কার্যপ্রণালি বিধি ও সংসদীয় কার্যক্রম’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
অনুষ্ঠানে স্পিকারসহ সংসদীয় নেতারা আইন প্রণয়ন, সংসদীয় রীতি-নীতি চর্চা এবং কার্যকর অংশগ্রহণে সংসদ সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, জনগণের করের অর্থে পরিচালিত সংসদকে কার্যকর ও গণমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি; চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি, এমপি এবং বিরোধী দলের নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান, এমপি। এছাড়া আন্তর্জাতিক অংশীদারদের পক্ষে বক্তব্য দেন ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার এবং সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি।
জনগণের আস্থা অর্জনে সংসদের ভূমিকা
সভাপতির বক্তব্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ জনগণের প্রত্যাশা পূরণ ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি।
তিনি আরো বলেন, প্রস্তাব উত্থাপন, বিল পর্যালোচনা এবং সংসদীয় কার্যক্রমে কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কার্যপ্রণালি বিধি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।
সংসদের তিনটি মৌলিক দায়িত্ব- আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, এসব দায়িত্ব সফলভাবে বাস্তবায়নে সরকারি ও বিরোধী দলের গঠনমূলক অংশগ্রহণ জরুরি। তিনি জানান, সংসদীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করতে ইউএনডিপি ও সুইজারল্যান্ডের ‘স্ট্রেংদেনিং ইনস্টিটিউশনস, পলিসিস অ্যান্ড সার্ভিসেস (এসআইপিএস)’ কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জনগণের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব নিয়েই সংসদ সদস্যরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি তাদের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ করে দিয়েছে এবং সেই দায়িত্ব পালনে তারা জনগণের কাছে জবাবদিহি।
চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেন, একজন সংসদ সদস্যকে নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের সমস্যা ও প্রত্যাশার প্রতি মনোযোগী হতে হয়। পাশাপাশি সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দায়িত্বও পালন করতে হয়। এসব দায়িত্ব যথাযথভাবে সম্পাদনের জন্য সংসদীয় রীতি-নীতি ও কার্যপ্রণালি বিধি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা প্রয়োজন।
সুশাসন ও টেকসই গণতন্ত্রের ওপর গুরুত্ব
বিরোধী দলের নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের করের অর্থে পরিচালিত সংসদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং টেকসই গণতন্ত্র নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্য সামনে রেখেই সংসদের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন।
দুই দিনব্যাপী এই ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির প্রথম গ্রুপে বিভিন্ন সংসদীয় আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা অংশ নেন। এর মধ্যে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে শুরু করে বরগুনা-১, পটুয়াখালী-১ থেকে ভোলা-২ এবং ভোলা-৪ থেকে ময়মনসিংহ-৫ আসনের নির্বাচিত সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনের ৩০১ নম্বর থেকে ৩২৪ নম্বর আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
