মায়ের প্রতি অবহেলার অভিযোগে শাস্তি পাবেন সেই যুগ্ম-সচিব
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুরে ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার ছেলে, সরকারি কর্মকর্তা এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। তিনি বর্তমানে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ কে এম আনিসুর রহমানের বক্তব্যও নেওয়া হবে। তিনি জানান, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন কার্যকর হওয়ার মতো পরিস্থিতি পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার নৈতিক দায়িত্বের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তদন্ত ও তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, প্রথম দিকে আনিসুর রহমান বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে তিনি মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সচিবালয়ে বিষয়টি পর্যালোচনার কাজ চলছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে তাকে জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়া যায়নি।
গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহটি পচে গিয়েছিল এবং তাতে পোকা ধরেছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় তারা বিষয়টি পুলিশকে জানান। তারা আরও বলেন, পুরো বাসাটি ছিল অস্বাস্থ্যকর ও অগোছালো অবস্থায়।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির জানান, নুরজাহান বেগম তার মেয়ের বাসায় থাকতেন। তবে ঘটনাস্থলের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত নোংরা।
নুরজাহান বেগমের এক ছেলে এ কে এম আনিসুর রহমান একজন যুগ্ম-সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং অপর ছেলে এ কে এম আশিকুর রহমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক। তাদের বোন একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
প্রতিবেশীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই নুরজাহান বেগম কার্যত একাকী জীবনযাপন করছিলেন। দুই ছেলে আলাদা থাকতেন এবং তাদের সঙ্গে মায়ের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না।
মায়ের এমন করুণ মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সন্তানদের দায়িত্ব ও পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।
