ভারত ‘খুনি রাষ্ট্র’ ও বিএসএফ ‘খুনি বাহিনী’: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, কীভাবে খুনিরা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ থেকে সহজে পালিয়ে যেতে পারে।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে যশোরের বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কোনো ধরনের ‘জজ মিয়া’ ধরনের সাজানো তদন্ত বা রাজনৈতিক নাটক মেনে নেওয়া হবে না। প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, অতীতের সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো বিচার যেন আবারও দীর্ঘসূত্রতায় আটকে না যায়।
বেনাপোল সীমান্তে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভারত ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর কড়া সমালোচনা করেন। তিনি ভারতকে ‘খুনি রাষ্ট্র’ এবং বিএসএফকে ‘খুনি বাহিনী’ আখ্যা দিয়ে সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।
তিনি সম্প্রতি বেনাপোল–হরিদাসপুর সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশইনের অভিযোগ নিয়েও তীব্র প্রতিবাদ জানান। তার দাবি, ৩১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
সীমান্ত এলাকার জীবনযাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের অভাবে সীমান্তবর্তী মানুষ অনেক সময় বাধ্য হয়ে কঠিন পরিস্থিতির শিকার হয়। এ অবস্থায় সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আধুনিকায়নের দাবি জানান তিনি।
তার মতে, বিজিবিকে শুধু সীমিত সরঞ্জামে নয়, আধুনিক ভারী অস্ত্র, উন্নত পেট্রোলিং ব্যবস্থা, যানবাহন ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা এবং বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, সীমান্তে যেকোনো অপরাধী হলেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। সীমান্ত হত্যার প্রতিটি ঘটনার জন্য ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
শেষে তিনি ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের চেতনা ধারণ করে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে হলেও দেশের এক ইঞ্চি ভূখণ্ড বা সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত মেনে নেওয়া হবে না।
