মেহেরপুর ও নওগাঁ সীমান্তে বিএসএফের পুশ ইন চেষ্টা ব্যর্থ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০১:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মেহেরপুর ও নওগাঁ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশে নারী-পুরুষ ও শিশুদের পুশ ইন করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) ভোরে এই দুই সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কঠোর প্রতিরোধের মুখে শেষ পর্যন্ত সবাইকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
এদিন ভোরে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্ত দিয়ে ছয়জনকে বাংলাদেশে পুশ ইন করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্তের ১৪০/৫ এস আন্তর্জাতিক পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, ওই পিলারের কাছে হাটপাড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে দুই পুরুষ, দুই নারী, একজন বৃদ্ধ ও একটি শিশুসহ ছয়জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে তারা বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকতে পারেনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়ার একটি অংশ খুলে ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। বর্তমানে ওই ছয়জন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। সীমান্তের ওপারে বিএসএফ এবং এপারে বিজিবি ও গ্রামবাসীরা অবস্থান নিয়েছে।
বিজিবি হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে পুশ ইন প্রতিরোধ করছে এবং ওই ব্যক্তিদের ভারতের ভেতরে ফিরিয়ে নিতে বিএসএফকে আহ্বান জানাচ্ছে। বিষয়টি সমাধানে বিজিবি বিএসএফের কাছে পত্রও পাঠিয়েছে, তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তেঁতুলবাড়ীয়া বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পুশ ইনকৃতদের ফিরিয়ে নিতে বিএসএফকে হ্যান্ড মাইকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা পুশ ইন বাংলাদেশ মেনে নেবে না। সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
অন্যদিকে, নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ১৭ জনকে বিএসএফ-এর পুশ ইন করার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি পিলার দিয়ে তাদের ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায় বিএসএফ। দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা চেষ্টার পর শেষ পর্যন্ত শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে বিএসএফ ওই ১৭ জনকে ফিরিয়ে নেয়।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে টহল বাড়ানো হয়। ওই ১৭ জনের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, ছয়জন নারী ও পাঁচটি শিশু রয়েছে। তাদের বাংলাদেশি বলা হলেও পতাকা বৈঠকে বিএসএফ কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি।
প্রত্যক্ষদর্শী কলমুডাঙ্গা গ্রামের ট্রাক্টরচালক মাহবুব আলম বলেন, ‘বিজিবি সদস্যরা ওই ১৭ জনকে পাহারা দিয়ে রেখেছিলেন। রাত ১১টার দিকে আমি ধান লোড দিচ্ছিলাম, তখনও তারা সেখানে ছিলেন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের টেনেহিঁচড়ে ভারতে নিয়ে যায়। তারা যেতে চাচ্ছিল না, অনেক কান্নাকাটি করছিল।’
বিজিবি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, ‘শুরুতেই মানবিক কারণে তাদের শূন্যলাইনে থাকতে দেওয়া হয়। সন্ধ্যার পর নো-ম্যান্স ল্যান্ডে পাঠানো হয়। রাত ১টার দিকে বিএসএফ সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেয়। এরপর রাতের আঁধারে তারা পুশ ইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ওই ১৭ জনকে ভারতের ভেতরে ফিরিয়ে নেয়। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার রাখা হয়েছে।’
