আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীতে তৃতীয় লিঙ্গের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর দাবি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
যোগ্যতার ভিত্তিতে আনসার, পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশে হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়োগের সুযোগ বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও তৃতীয় লিঙ্গের সমাজের প্রতিনিধি রামিসা চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে শিক্ষাগত যোগ্যতার কিছু শর্ত শিথিল করার বিষয়ও বিবেচনা করা যেতে পারে।’
সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: অসুবিধাগ্রস্ত মানুষের জন্য কী আছে?’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। ব্রিফিং সঞ্চালনা করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান।
এতে আরো বক্তব্য দেন গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, অ্যাকশনএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রহমান, কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া প্রমুখ।
রামিসা চৌধুরী বলেন, ‘প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে হিজড়া ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ থাকলেও তা বাস্তবায়নে আরো কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘শুধু বাজেট বরাদ্দ দিলেই হবে না, তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। যোগ্যতার ভিত্তিতে আনসার, পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশে হিজড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়োগের সুযোগ বাড়াতে হবে।’
রামিসা বলেন, ‘আমরা সমাজেরই একটি অংশ। কিন্তু এখনও কর্মসংস্থান, বাসাভাড়া, শিক্ষা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে নানা বৈষম্যের শিকার হই। সবার আগে আমরা মানুষ। এই সমাজে মানুষ হিসেবে মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চাই। শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, সমাজের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন প্রয়োজন। হিজড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব, সম্মান ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি ছাড়া প্রকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘হিজড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্যদের কর্মসংস্থান প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কর সুবিধা ও করছাড়ের ব্যবস্থা আরো কার্যকরভাবে অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করতে হবে।’
হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে রামিসা বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেই শিক্ষা থেকে ঝরে পড়েন। ফলে, তাদের জন্য বিকল্প শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি জোরদার করতে হবে, যেন তারা সহজে কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।’
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রশিক্ষণের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ‘যারা পার্লার বা সেবামূলক খাতে কাজ করতে আগ্রহী, তাদের কৃষিকাজ শেখালে তা কার্যকর হবে না।’
রামিসা চৌধুরী বলেন, ‘প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে হিজড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্যদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে। এতে তারা দেশের রেমিট্যান্স আয়ে অবদান রাখতে পারবেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানে হিজড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব অত্যন্ত কম। তাই সরকারি ও বেসরকারি খাতে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি বিসিএসসহ সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়িয়ে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।’
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এসব সমস্যার কারণে অনেক হিজড়া নাগরিক ভোটাধিকার প্রয়োগসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হন। তাই এ বিষয়ে দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।’
