ডেঙ্গু প্রতিরোধে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় কমিটির প্রথম সভায় বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের তত্ত্বাবধানে একটি টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
টাস্কফোর্সটি মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম তদারকি, প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেওয়া, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং জরুরি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় কমিটির প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এই সভা হয়।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন তিনি।
কমিটিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন অনুবিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা থাকবেন। এ ছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; প্রতিরক্ষা; রেলপথ; কৃষি; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ; তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যে চার হাজার ছাড়িয়েছে। গত রোববার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২২০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ২ জনের মৃত্যু হয়। এতে বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯। বর্ষা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রাক্-বর্ষা জরিপে ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিতেই এডিস মশার ঘনত্ব নির্ধারিত মাত্রার বেশি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গু সংক্রমণের অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত ওষুধ প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে নভেম্বর মাসে। সেই মাসে ১০৪ জনের প্রাণ যায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকনগুনিয়াও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
