ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় ঢাকায় ৪৪৫ আশ্রয়স্থল প্রস্তুত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:১৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানী ঢাকায় ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন নগর দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদে গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যার টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, নগর দুর্যোগ ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় ২৫৬টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় ১৮৯টিসহ মোট ৪৪৫টি ভূমিকম্প-নিরাপদ আশ্রয়স্থল নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব আশ্রয়স্থল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ঢাকা মহানগর ও আশপাশের এলাকায় যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার লক্ষ্যে এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন স্বেচ্ছাসেবকদের তথ্য সংগ্রহ করে একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ভূমিকম্প ও সুনামির ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান করায় বাংলাদেশে এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ঝুঁকি হ্রাস এবং প্রস্তুতি জোরদারে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতা ও জরুরি সাড়া প্রদানের সক্ষমতা বাড়াতে এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক তৈরির পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২, দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি (এসওডি)-২০১৯, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা এবং জাতীয় ভূমিকম্প প্রস্তুতি ও মোকাবিলা পরিকল্পনার আলোকে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয়, জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে নিয়মিত সভা, প্রশিক্ষণ ও মহড়ার আয়োজন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটি পর্যায়ে ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক মহড়ার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে ভূমিকম্প ও সুনামি-সংক্রান্ত তথ্য পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত সতর্কবার্তা প্রচারের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, আনসার-ভিডিপি এবং সিপিপির স্বেচ্ছাসেবকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে, যাতে দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ভূমিকম্প সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ভূমিকম্প ও সুনামিজনিত ঝুঁকি কমিয়ে জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
