×

রাজনীতি

জামায়াত আমির

লজ্জার বিষয়, সরকার ফ্যাসিবাদের পথ ধরেই হাঁটছে

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম

লজ্জার বিষয়, সরকার ফ্যাসিবাদের পথ ধরেই হাঁটছে

ছবি : সংগৃহীত

সরকার ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হওয়ার কথা বললেও বাস্তবে ফ্যাসিবাদের পথ ধরেই হাঁটা শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যাংকে হস্তক্ষেপ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখল, প্রশাসনে দলীয়করণ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে সরকার কার্যত একদলীয় শাসনের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে ১১ দল আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এসব বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের জাতাকলে পিষ্ট এই জাতিকে আল্লাহ তাআলা আমাদের ছাত্র, শ্রমিক, যুব ও জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মাত্র দুই বছর আগে মুক্তি দিয়েছিলেন।’

‘সেই সময় যে দলটি আমাদের মতোই মজলুম ছিল, নির্যাতিত ছিল, আজকে তারা ক্ষমতায় আছে’ -মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, ‘তারা তখন প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছিল। নির্বাচনের সময় তারা বলেছিল, নির্বাচিত হলে যত হত্যা ও নির্যাতন হয়েছে সবগুলোর বিচার করবে। ক্ষমতায় বসার পর এখন তাদের সুর পাল্টে গেছে।’ বলেন ডা. শফিক।

চব্বিশের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা বিচার নিশ্চিত করুন। না হয় আপনারা যাওয়ার রাস্তা খুঁজে বের করুন।’

বিচার তো তারা করছে না, বরং গত চার মাসে ৬০০ জনের বেশি মানুষ খুন হয়েছে বলে অভিযোগ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘আরও দুঃখজনক, এই দলটি (বিএনপি) নিজেদের হাতে নিজেদের কর্মীদেরকেই খুন করেছে। যাদের নিজেদের কর্মীদের সম্পর্কে নিজেদেরই কোনো দায় এবং দরদ থাকে না, ২০ কোটি মানুষের জন্য তাদের কী দায় এবং দরদ থাকবে?’


সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘লজ্জার বিষয়, সরকার ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হওয়ার কথা বলে ঠিক ফ্যাসিবাদের রাজপথ ধরেই তারা এখন হাঁটা শুরু করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিভিন্ন ব্যাংকে অযাচিত হস্তক্ষেপ, বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজগুলো দলীয় অনুগতদের দিয়ে দখল করা, জেলায় জেলায় প্রশাসক বসিয়ে দেওয়া, এমনকি খেলার মাঠটাও পর্যন্ত তারা দলমুক্ত রাখতে পারলেন না। এইভাবে তারা আবার কার্যত একদলীয় ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।’

সরকারের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘আপনারা যে পথে হাঁটছেন, সংসদে আমরা প্রত্যেকটি বিষয়েই সেখানে প্রতিবাদ করছি। দুই-তৃতীয়াংশ কীভাবে পেয়েছেন, আপনারাই ভালো জানেন। আর এ দেশের জনগণ জানে। এবং এই ব্যাপারে কিছু রাজসাক্ষী ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে।’

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘কারও বাবার সাধ্য নাই এ দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব নিয়ে টানাটানি করা। আল্লাহর ওপর ভরসা করে আপনাদেরকে আগামীর সেই বিপ্লবের দাওয়াত আজকে দিয়ে রাখলাম।’

সংসদে বিরোধী দলের অবস্থান প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংসদে যতদিন পর্যন্ত কথা বলার পরিবেশ থাকবে, জাতির স্বার্থে যতদিন পর্যন্ত থাকার দরকার হবে, তার বাইরে আমরা এক সেকেন্ডও থাকব না। যেদিন সংসদের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে, যেদিন মনে হবে সংসদে বলে লাভ নাই, সেদিন সেই সংসদে খোদা হাফেজ বলে আমরা বেরিয়ে আসব।’

সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ড, পিলখানা হত্যাকাণ্ডসহ সকল গুম-খুন এবং শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে। বিচার যদি নিশ্চিত না করা হয়, এই সরকার কোনোভাবেই পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর গত চার মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কোনো নতুন রায় হয়নি এবং নতুন কোনো তদন্ত প্রতিবেদনও জমা পড়েনি। ‘এটা স্পষ্ট যে, যেই চিফ প্রসিকিউটরকে বসানো হয়েছে তিনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। অবিলম্বে তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে,’ বলেন নাহিদ ইসলাম।

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা নাকচ করে নাহিদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দেশে আসার, রাজনীতি করার সুযোগ বাংলাদেশে ৫ আগস্টেই সমাপ্ত হয়েছে। যারা সমঝোতা করছে, যারা নতুন করে স্বপ্ন দেখছে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করার, তাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের মতই হবে।’

সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আইনমন্ত্রী বিচার না করার কারণে স্পষ্ট ব্যর্থ হয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপত্তা দিতে না পারায় ব্যর্থ হয়েছেন। তথ্যমন্ত্রীও ব্যর্থ হয়েছেন, কারণ তিনি আওয়ামী লীগের সুশীল সমাজকে মিডিয়ায় স্পেস দিচ্ছেন।’

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ‘শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীরা ভারতে গিয়ে জামাই আদরে প্রতিপালিত হচ্ছে। ভারত সরকারকে বলতে চাই, হাদি হত্যার বিচার করার অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে। সেই হত্যাকারীদের বাংলাদেশে হস্তান্তর করুন।’

মামুনুল হক বলেন, ‘যে ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছে তারা পুরোনো রূপেও ফিরবে না, আর নতুন রূপেও ফিরতে দেব না আমরা।’

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নিয়ে সরকার টালবাহানা করছে বলেও অভিযোগ করেন মামুনুল হক। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘মনে রেখো, জুলাই বিপ্লবের পিঠে যদি ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করো, তবে ইতিহাস থেকে নির্মূল হয়ে যাবে।’

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন এবং মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

আটকে থাকা অর্থের ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ওড়ালো ইরান

আটকে থাকা অর্থের ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ওড়ালো ইরান

আখাউড়ায় পার্টনার কংগ্রেস ও ফলমেলা অনুষ্ঠিত

আখাউড়ায় পার্টনার কংগ্রেস ও ফলমেলা অনুষ্ঠিত

জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতি তহবিল, প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে আনার দাবি প্রধানমন্ত্রীর

জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতি তহবিল, প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে আনার দাবি প্রধানমন্ত্রীর

বিপৎসীমার উপরে তিস্তার পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

বিপৎসীমার উপরে তিস্তার পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App