বিপৎসীমার উপরে তিস্তার পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানির প্রবাহ বর্তমানে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। ফলে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৬ সেন্টিমিটার। সেখানে বিপৎসীমা নির্ধারিত রয়েছে ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার।
এর আগে সকাল ৬টায় পানির স্তর বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে এবং দুপুর ১২টায় ১৫ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। তবে বিকাল ৩টার দিকে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে উজানের ঢলে তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় পানির উচ্চতা ওঠানামা করছিল। তবে চলতি বছরে এই প্রথমবারের মতো পানির প্রবাহ বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
এদিকে আকস্মিক পানি বৃদ্ধির কারণে ব্যারাজের ভাটির দিকে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নে তিস্তা সেতু প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি কোলকোন্দ ইউনিয়নের ডান তীর রক্ষা বাঁধের গ্রোয়েনেও তীব্র স্রোতের চাপ পড়ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ শুরু হওয়ায় নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, দ্রুতগতিতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই নিম্নাঞ্চলের অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়তে পারে। তাই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, ভারত থেকে নেমে আসা উজানের ঢল এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
