আইজিপি
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প প্রকৃত অর্থেই নতুন ঢাকা হবে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো.আলী হোসেন ফকির বলেন, রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প প্রকৃত অর্থেই নতুন ঢাকা হবে।
তিনি বলেন, পূর্বাচলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অধীনে ৪টি থানা, ৬টি তদন্ত কেন্দ্র, ২টি পুলিশ লাইনস, ৩টি উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) কার্যালয় এবং ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের প্রক্রিয়াও চলমান।
বুধবার (১ জুলাই) রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পরিচালিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে নবনির্মিত ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
মো.আলী হোসেন ফকির বলেন, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে পুলিশের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধনের মাধ্যমে। পূর্বাচলকে পরিকল্পিত, নিরাপদ ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এই ক্যাম্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির লক্ষ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় ডিএমপির মোট ৪টি থানা, ৬টি তদন্ত কেন্দ্র এবং ২টি পুলিশ লাইনস স্থাপনের জন্য সরকার কর্তৃক নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এছাড়াও ৩টি ডিসি অফিস স্থাপনের কার্যক্রম চলমান। পাশাপাশি পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের বিভিন্ন সেক্টরে ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের প্রক্রিয়াও চলমান।
তিনি বলেন, পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলাকে গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থানাগুলো ও তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়। পরবর্তীতে রাজউক পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ পুলিশের অনুকূলে ২৯.২১ একর জমি বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয়। যার মধ্যে ১৮.৬৩ একর জমির দলিল রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। বাকি জমির রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াধীন।
তিনি বলেন, আগামীতে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প ডিএমপির অধীনে আনয়ন করে এখানে ডিএমপির অন্যান্য বিভাগের মতো একটি স্বতন্ত্র বিভাগ সৃষ্টি করে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের তত্ত্বাবধানে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের জন্য পুলিশের প্রায় ৬৫২৪ জন জনবল সৃষ্টির প্রস্তাব বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, পূর্বাচলে রাজউক এর মেকানিক্যাল স্ট্যাক ইয়ার্ডে বরকাউ পুলিশ ক্যাম্পের উদ্বোধন পূর্বাচলকে কেন্দ্র করে বর্তমান সরকারের সুদুরপ্রসারী চিন্তাভাবনার পরিচয় বহন করে। এর মাধ্যমে মেগাসিটি ঢাকার আয়তন ও কলেবর যেমন বাড়বে তেমনি নাগরিক সুযোগ-সুবিধাসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও একটি সুসংগঠিত কাঠামো পাবে। যা ফলশ্রুতিতে নগরায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
আইজিপি বলেন, পূর্বাচলে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন এই প্রকল্পের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও বেগবান করবে। পুলিশের অবস্থান ও তৎপরতা জনমনে আস্থা ও নির্ভরতার জায়গা তৈরি করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে পূর্বাচলে দুটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপিত হবে তার একটি বরকাউ পূর্বাচল পুলিশ ক্যাম্প, ১নং সেক্টরে; যেটি আমরা আজকে উদ্বোধন করা হয়েছে। অন্যটি প্রস্তাবিত ক্যাম্প যার নির্মাণ কাজ চলমান। আগামী দুই মাসের মধ্যে আমরা সেই ক্যাম্পটিও উদ্বোধন করতে সক্ষম হবো। ক্রমান্বয়ে অন্যান্য থানা ও তদন্তকেন্দ্র স্থাপিত হবে।
