সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
হারিছ আহমেদ, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জে একটি ইটভাটা দখল, বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ আত্মসাৎ এবং এক ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) কিশোরগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমল গ্রহণকারী আদালত-৫)-এ ব্যবসায়ী সালাহ উদ্দিন রুবেল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মো. এমরান অভিযোগটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন এবং অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সরেজমিন অনুসন্ধান, সাক্ষীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন, কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর মীরেরপাড়া গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে ওমর নূর অমিত (৩৬), মৃত বুলু মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম (৫০), মৃত অনু মিয়ার ছেলে পারভেজ খান (৩৫) এবং চালত গ্রামের মেনু মিয়ার ছেলে আমজাদ হোসেন লিটন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিদের মালিকানাধীন বিশ্বাস ব্রিকস লিমিটেড (বিবিএল) নামের একটি পরিত্যক্ত ইটভাটা ব্যবসার জন্য বাদী সালাহ উদ্দিন রুবেলকে লিজ নেওয়ার প্রস্তাব দেন সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ। তাদের আশ্বাসে ৫ বছরের জন্য ৪৫ লাখ টাকা অগ্রিম চুক্তিতে ভাটাটি ভাড়া নেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভাটাটি সচল করতে বাদী প্রায় ২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। এর মধ্যে ৪৪০ ভোল্ট বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন, নতুন কিলন ও মাঠ নির্মাণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও মেশিনারিজ কেনাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। পরিত্যক্ত ইটভাটাকে একটি আধুনিক উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ২০২০ সালে উৎপাদন শুরু হওয়ার পর ভাটাটি লাভজনক হয়ে ওঠে। ২০২০-২১ মৌসুমে সেখানে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের এক কোটি পোড়া ইট, প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের ৫০ লাখ কাঁচা ইট এবং প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ইট তৈরির মাটিসহ মোট প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার সম্পদ মজুত ছিল।
বাদীর দাবি, বিপুল পরিমাণ সম্পদের প্রতি লোভ থেকেই আসামিরা অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র ব্যক্তিদের নিয়ে ইটভাটায় হামলা চালান। অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে ভাটা থেকে উচ্ছেদ করা হয় এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর কটিয়াদী শাখায় থাকা মেসার্স রুবেল মোটরস ও বিসমিল্লাহ এগ্রো ফার্ম-এর একাধিক অলিখিত চেক এবং স্ট্যাম্পে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদের কাছে প্রতিকার চাইলে তিনি বিনিয়োগ করা অর্থ, ভাড়ার টাকা, যন্ত্রপাতির মূল্য এবং স্বাক্ষর নেওয়া চেক-স্ট্যাম্প ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু পরে তিনি ও অন্য আসামিরা ইটভাটা ভাড়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং বিষয়টি নিয়ে আর এগোলে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে বাদীর অভিযোগ।
প্রাণনাশের আশঙ্কায় একপর্যায়ে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন বলেও মামলায় উল্লেখ করেছেন বাদী।=
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসাইন বলেন, আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে কিশোরগঞ্জের পিবিআই পুলিশ সুপারকে সরেজমিন তদন্ত, সাক্ষীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা আদালতের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।
