বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে ফিরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতি মাসে নিজের বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাবা, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনুসরণে এ উদ্যোগ নিয়েছেন। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও সামর্থ্য অনুযায়ী বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীতে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের উদ্দেশে বিনয়ের সঙ্গে বলেন, তিনি নিজে প্রতি মাসে বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছেন এবং অন্য মন্ত্রীরাও চাইলে একই উদ্যোগ নিতে পারেন।
সাখাওয়াত হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার মূল বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। সে হিসেবে প্রতি মাসে ১১ হাজার ৫০০ টাকা সরকারি হিসাবে জমা দেওয়া হয়, যা দরিদ্র মানুষের কল্যাণ বা সরকারের প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করা যেতে পারে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে মন্ত্রিসভার সদস্যরা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি তাদের অনুপ্রাণিত করেছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের একটি শ্রেণি অতিরিক্ত মুনাফাকেন্দ্রিক হয়ে পড়ায় স্বাস্থ্যসেবার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তিনি দাবি করেন, প্রয়োজন না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ভয়ভীতি দেখিয়ে সিজারিয়ান অপারেশনের দিকে রোগীদের ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
তার ভাষ্য, গর্ভাবস্থার নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কিছু অসাধু দালালচক্র ও চিকিৎসাকেন্দ্র পরিবারের সদস্যদের নানা জটিলতার আশঙ্কা দেখিয়ে সিজারিয়ানে রাজি করায়। ফলে মা ও সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেক পরিবার চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নিতে বাধ্য হয়।
তিনি বলেন, চিকিৎসকদের প্রতি মানুষের আস্থা অত্যন্ত বেশি। তাই চিকিৎসা পেশায় নৈতিকতা ও জবাবদিহি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাতৃস্বাস্থ্য ও নবজাতকের পুষ্টি নিশ্চিত করতে দক্ষ মিডওয়াইফের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি এলাকায় প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফের সেবা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও জানান, চলতি বছর স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ নতুন জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার নারী নিয়োগ পাবেন এবং তাদের বড় একটি অংশ মিডওয়াইফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, যাতে প্রত্যন্ত এলাকাতেও মাতৃস্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া যায়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘোষণা দেন, আগামী শনিবারের মধ্যে দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন করতে হবে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিলসহ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটির নেতারা জানান, একজন ধাত্রী নিবন্ধন পেতে ৪০টি স্বাভাবিক প্রসব পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজার ৮০০ জন দক্ষ ধাত্রী তৈরি হলেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবে তাদের অনেকেই পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হন। বর্তমানে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বছরে মাত্র প্রায় ৫০০ জন ধাত্রী কাজের সুযোগ পান; বাকিরা সাধারণ নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
