স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
গ্রামীণ উন্নয়নের মাধ্যমেই টেকসই বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
গ্রামাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত না হলে টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের আয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের রাস্তাঘাট, যোগাযোগব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামোর উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। তবে কেবল অবকাঠামো নির্মাণ করলেই উন্নয়ন পূর্ণতা পায় না। জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আয় বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারলেই প্রকৃত উন্নয়ন অর্জন সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
এর আগে সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং দ্বিতীয় বিশ্ব পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রাঙ্গণে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
পরে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার স্টল পরিদর্শন করেন। এরপর একটি বর্ণাঢ্য র্যালি মিলনায়তন প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকায় থাকলেও সরকারের লক্ষ্য দারিদ্র্যমুক্ত, সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল দেশ গড়ে তোলা। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের কৃষি, দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিক, কার্যকর ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আত্মনির্ভরশীল হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
আলোচনা সভার শুরুতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক একেএম তারেক স্বাগত বক্তব্য দেন। পরে সফল উদ্যোক্তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, সরকারি সহায়তা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের সমন্বয়ে কীভাবে তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সমবায়ী ও সুফলভোগীরা অংশ নেন।
