পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা বিরোধীদলীয় নেতার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক পিজি হাসপাতাল) সংক্রান্ত নতুন বিল নিয়ে জাতীয় সংসদে উদ্বেগ জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক করার উদ্যোগ নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে এবং স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপনের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। দেশে আরও কয়েকটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম এখনো সেভাবে গড়ে ওঠেনি। এই পরিস্থিতিতে মূল প্রতিষ্ঠানটিকে যদি প্রফিট ও নন-প্রফিট কাঠামোয় ভাগ করে শেয়ারিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই চিকিৎসার খরচ বাড়বে।
তিনি বলেন, চলতি অধিবেশনে বাজেট পাসের সময় জনগণের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা সবাই সমর্থন করেছে। কিন্তু প্রস্তাবিত বিলের ভাবনা তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কোনো কোম্পানি বিনিয়োগ করে মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করলে সেখানে ‘অসুস্থ প্রতিযোগিতা’ তৈরি হতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের সুবিধার চেয়ে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর লাভবান হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকবে।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিরোধীদলীয় নেতাকে আশ্বস্ত করে বলেন, বিলটি কেবল সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত যাচাই-বাছাইয়ের জন্য যখন এটি সংসদে আসবে, তখন এ বিষয়ে আলোচনার জন্য তাকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হবে।
এদিকে বিল উত্থাপনের পর সংসদের বিশেষ কমিটির কার্যক্রম নিয়ে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ ওই কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও সভার নোটিশ যথাসময়ে তাকে জানানো হয়নি।
রফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল ১০টায় কমিটির সভা নির্ধারিত ছিল, অথচ কমিটির সভাপতির পিএস তাকে ফোন করেন ১০টা ১৯ মিনিটে। পরে জানতে পারেন, সকাল ৯টা ১৯ মিনিটে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গুরুত্বপূর্ণ একটি কমিটির সভার খবর মাত্র ৪০ মিনিট আগে জানালে সদস্যের পক্ষে উপস্থিত হওয়া বাস্তবে সম্ভব কি না।
অভিযোগের পর স্পিকার অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার জন্য বিশেষ কমিটির সভাপতিকে নির্দেশ দেন।
স্পিকার বলেন, সংসদের ভেতরে বা বাইরে এমন ধারণা তৈরি হওয়া ঠিক নয় যে, সভার নোটিশ যথাসময়ে দেওয়া হয় না। ভবিষ্যতে প্রত্যেক সদস্যকে পর্যাপ্ত সময় দিয়ে অবহিত করার জন্য বিশেষ কমিটির সভাপতির প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। একই সঙ্গে ভুলভ্রান্তি এড়াতে সভাপতিকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
