তিন নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, নতুন এলাকায় বন্যার শঙ্কা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
ফাইল ছবি
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে নতুন নতুন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে তিনটি নদীর চারটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আরো পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। সোমবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, সুরমা নদীর সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া সোমেশ্বরী নদীর নেত্রকোণার কলমাকান্দা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে।
সকাল ৯টা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি নদী পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৮০টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপরীতে ৪৪টি স্টেশনে পানি কমেছে, দুটি স্টেশনে অপরিবর্তিত রয়েছে এবং একটি স্টেশনের তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের উজান এবং অভ্যন্তরীণ এলাকায় অব্যাহত অতিভারী বৃষ্টির কারণে আরও কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এর মধ্যে রয়েছে সুরমা নদীর সিলেটের কানাইঘাট, সিলেট সদর ও সুনামগঞ্জ স্টেশন, তিস্তা নদীর নীলফামারীর ডালিয়া ও রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্ট এবং মুহুরী নদীর ফেনীর হরিপুর স্টেশন। এসব এলাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে নতুন করে বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ের মাওকিরওয়াত এলাকায় সর্বোচ্চ ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ২০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে জামালপুরে।
এরই মধ্যে টানা বর্ষণ ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে দেশের অন্তত ছয়টি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যা ও বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, আবহাওয়া বিভাগ বলেছে, ভারী বর্ষণের কারণে রাজধানী ঢাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।
সাধারণত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে সেটিকে ভারী বর্ষণ, আর ৮৮ মিলিমিটারের বেশি হলে সেটিকে অতি ভারী বর্ষণ বলা হয়।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে গত কয়েকদিন ধরে কমবেশি টানা বৃষ্টি হচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা বৃষ্টিপাত প্রথমে পার্বত্য চট্টগ্রামে বন্যা, ভূমিধস ও মৃত্যুর কারণ হলেও এখন তা ঢাকাসহ প্রায় বেশিরভাগ জেলাতেই জনজীবন বিপর্যন্ত করে তুলেছে।
অতিবৃষ্টি, পাহাড়ী ঢল ও পাহাড়ধসে ক্ষয়ক্ষতি ও ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্দ ও বিতরণ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যা আক্রান্ত জেলা সাতটি।
