প্রাথমিক শিক্ষায় আসছে ডিজিটাল ডিভাইস, ট্যাব পাবেন শিক্ষকরা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
প্রাথমিক শিক্ষায় ডিজিটাল ব্যবস্থার বিস্তারে শিক্ষকদের ট্যাব দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদেরও শিক্ষাবান্ধব ডিজিটাল ডিভাইস দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে ধাপে ধাপে শ্রেণিকক্ষে ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের আয়োজনে ‘ডিজিটাল জেন্ডার নরমস (ডিজিটাল পরিসরে লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক মানদণ্ড): জাতীয় শিখন-অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা থেমে থাকবে না। তাই শিশু-কিশোরদের প্রযুক্তি থেকে দূরে সরিয়ে না রেখে নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ব্যবহারের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় ধাপে ধাপে শ্রেণিকক্ষে ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হবে। শিক্ষকদের জন্য ট্যাব দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদেরও শিক্ষাবান্ধব ডিজিটাল ডিভাইস দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে জনগণের কণ্ঠ রোধের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। বরং ওই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে, ডিজিটাল মাধ্যম এখন সমাজ, রাষ্ট্র ও নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই প্রযুক্তিকে অস্বীকার না করে এর সঠিক ও নিরাপদ ব্যবহারের সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সমাজের প্রচলিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের মধ্যে একটি ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এই ব্যবধান কমাতে শিক্ষা, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের নিরাপদ ডিজিটাল আচরণ, তথ্য যাচাই এবং অনলাইন নৈতিকতা সম্পর্কে প্রস্তুত করা জরুরি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ছবি ও ভিডিও, চরিত্রহনন এবং ডিজিটাল হয়রানি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষ করে নারী, কিশোরী ও নারী রাজনীতিবিদেরা এসব হয়রানির বড় শিকার। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জবাবদিহি নিশ্চিতের পাশাপাশি শিশু ও নারীর সুরক্ষায় কার্যকর আইন ও নীতিমালার বাস্তবায়ন সময়ের দাবি।
সরকার প্রযুক্তি ব্যবহারে অযৌক্তিক বাধা সৃষ্টি করতে চায় না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় শিশু ও নারীর নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ন্ত্রণও প্রয়োজন।
প্রাথমিক শিক্ষায় মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, জীবনদক্ষতা, জেন্ডার-সংবেদনশীলতা এবং নাগরিক মূল্যবোধকে নতুন শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলেও জানান ববি হাজ্জাজ। এ লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, ইউনেস্কোসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে।
তিনি বলেন, শিশুদের নিরাপদ বিকাশ নিশ্চিত করা শুধু অভিভাবকের দায়িত্ব নয়, পুরো সমাজের দায়িত্ব। এ কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কমিউনিটির সম্পৃক্ততা বাড়ানো হচ্ছে। স্কুল মিল কার্যক্রম তদারকিতে অভিভাবক কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যান্য ক্ষেত্রেও অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় এনজিওগুলোর উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর যেকোনো উদ্যোগ সরকার গ্রহণ ও বৃহত্তর পরিসরে বাস্তবায়নে প্রস্তুত। মন্ত্রণালয় এখন ওপেন-ডোর নীতিতে কাজ করছে। ফলপ্রসূ উদ্যোগ এলে তা মূল্যায়ন করে বৃহত্তর পরিসরে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।
নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় শুধু স্লোগান যথেষ্ট নয়। শৈশব থেকেই মেয়েদের সমান সুযোগ, সমান অধিকার, নিরাপদ পরিবেশ ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই এ পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের প্রতিনিধি, খুলনা ও সাভার অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক, ইউএন উইমেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল, জাগো ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
