আগস্টেই এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি
বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে ১০ নতুন উড়োজাহাজ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের ১০টি নতুন উড়োজাহাজ। এ লক্ষ্যে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে এয়ারবাসের সঙ্গে চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩১ সাল থেকে ধাপে ধাপে উড়োজাহাজগুলো বিমানের বহরে যুক্ত হবে।
এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বোয়িং ও এয়ারবাস- উভয় নির্মাতার উড়োজাহাজ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ মিশ্র বহর (মিক্সড ফ্লিট) পরিচালনা করবে। যদিও এ ধরনের বহর পরিচালনায় বিকল্প সুবিধা ও প্রতিযোগিতামূলক ক্রয়-সুযোগ তৈরি হয়, তবে পরিচালন ব্যয় ও রক্ষণাবেক্ষণের জটিলতাও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, মিশ্র বহরের অন্যতম সুবিধা হলো একটি নির্দিষ্ট নির্মাতার ওপর নির্ভরশীলতা কমে যায়। তবে একই সঙ্গে আলাদা পাইলট প্রশিক্ষণ, প্রকৌশলী, যন্ত্রাংশের মজুত, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং কারিগরি অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন হয়। তার মতে, নতুন উড়োজাহাজ কেনার আগে রুট, যাত্রী চাহিদা, পরিচালন ব্যয়, আয়-ব্যয়ের সম্ভাবনা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনার আলোকে পূর্ণাঙ্গ কস্ট-বেনিফিট বিশ্লেষণ করা জরুরি। পাশাপাশি পুরো ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
আরো পড়ুন: স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-বিধি প্রস্তাব চূড়ান্ত
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা) বলেন, সরকার নীতিগতভাবে বিমানকে ধাপে ধাপে মিশ্র বহরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে উড়োজাহাজ সংগ্রহে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং একটি মাত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। তিনি জানান, আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হবে। মূল্য এবং অন্যান্য শর্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রকাশ করা হবে। দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশের কাছে উড়োজাহাজ বিক্রিকে কেন্দ্র করে গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বের দুই শীর্ষ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং ও এয়ারবাসের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্যিক সমঝোতার অংশ হিসেবে বিএনপি সরকারের সময়ে বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশে এয়ারবাসও তাদের কার্যক্রম জোরদার করে। এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি, এয়ারবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে একাধিক দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর ১০টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। নতুন ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বহরের সংখ্যা বেড়ে হবে ২৯টি, যা বর্তমান বহরের তুলনায় প্রায় ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনা আলাদা একটি উদ্যোগ। এর সঙ্গে বোয়িংয়ের ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাবিত ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তির সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। ওই উড়োজাহাজগুলো ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে সরবরাহ পাওয়ার কথা রয়েছে।
