জ্বালানি তেল নিয়ে সরকারের বার্তা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ৩১ দিনের ডিজেল, ৩৬ দিনের অকটেন, ২০ দিনের পেট্রল, ২০ দিনের জেট ফুয়েল এবং ২৫ দিনের ফার্নেস অয়েলের মজুত রয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে আয়োজিত এক জরুরি ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, কৃত্রিম সংকটের পরিবেশ তৈরি করার উদ্দেশ্যে কিছু গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তবে এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
মনির হোসেন চৌধুরী জানান, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে দেশে ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন এবং আগামী আগস্ট মাসে আরও ২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি হবে। ফলে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে কোনো শঙ্কার অবকাশ নেই।
প্রাকৃতিক গ্যাসের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে বর্তমানে প্রতিদিন ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে। এই ঘাটতি দীর্ঘদিনের হলেও বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে কার্যক্রম জোরদার করেছে।
সিএনজি স্টেশনগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘ লাইনের বিষয়ে তিনি জানান, একটি এলএনজি ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ)-এ আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। ইতোমধ্যে কারিগরি দল মেরামতের কাজ করছে এবং আশা করা হচ্ছে আগামী দুই দিনের মধ্যেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। তখন সিএনজি স্টেশনগুলোতে তৈরি হওয়া চাপও কমে আসবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি আমদানির বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত খনিজ তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানি করে। হরমুজ প্রণালিতে জটিলতা দেখা দেওয়ার পর থেকে লোহিত সাগর রুট ব্যবহার করে সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে লোহিত সাগরের পথও বন্ধ হয়ে গেলে বিকল্প রুট ব্যবহার করার জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
