এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর অভিযুক্তদের একজন আমিনুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হুদা গ্রেপ্তার হওয়া আমিনুর রহমানকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২৪ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত-সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন: মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ওবায়দুর রহমান রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকার রোজ গার্ডেন টাওয়ারে তার বোনের বাসায় থাকতেন এবং গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আত্মীয়তার সূত্রে গাজী নজরুল ইসলামের ওই বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল। একপর্যায়ে তার সঙ্গে বাদীর ভাগ্নির সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে ওবায়দুর রহমান আপত্তি জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র গাজী নজরুল ইসলাম ও ওই তরুণীর কিছু ব্যক্তিগত ভিডিও সংগ্রহ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করে। গাজী নজরুল ইসলামের সন্দেহ ছিল, ভিডিওগুলো ওবায়দুর রহমানই গোপনে ধারণ করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গণমাধ্যমের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
এই সন্দেহের জেরে গত ১৪ জুলাই তার নির্দেশে অন্য আসামিরা ওবায়দুর রহমানের ওপর হামলা চালান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তাকে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
আহত ওবায়দুর রহমানকে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার পর আসামিরা তাকে হত্যার হুমকিও দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দল জানিয়েছে, এ সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনকেও অবহিত করা হবে। তবে মামলার অভিযোগগুলোর বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলামের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
